Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এলইইডি সনদপ্রাপ্ত শীর্ষ শত কারখানার অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশে

সবুজ কারখানার দিক দিয়ে তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:৩৪ পিএম

পোশাক কারখানায় কাজের পরিবেশ আরও অনুকূলে আনতে বিশ্ব জুড়ে চলছে পরিবেশবান্ধব কর্মস্থল গড়ার কাজ। আর এতে সবার চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। এরমধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া ১০০ কারখানার মধ্যে ৫১টিই বাংলাদেশে।

১০ ফেব্রুয়ারি সাভারের আশুলিয়ার অনন্ত গার্মেন্টস অ্যান্ড স্পোর্টসওয়্যার লিমিটেড এলইইডি ও+এম; বর্তমান স্থাপনা ভি৪.১ রেটিংয়ে মোট ৮৯ পয়েন্টে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে একটি প্লাটিনাম সার্টিফিকেট পেয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) তথ্য অনুসারে, দেশের পোশাক শিল্পে এখন পর্যন্ত ১৮৮টি কারখানার এলইইডি সার্টিফিকেশন রয়েছে।

২০২৩ সালের এই পর্যন্ত পাঁচটি কারখানা ইউনিট এলইইডি সার্টিফিকেশন পেয়েছে।

২০২২ সালে মোট ৩০ কারখানা ইউনিট এলইইডি সার্টিফিকেশন পেয়েছে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বর্তমানে, দেশের পোশাক শিল্পে প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে ৬৪টি, গোল্ড ১১০টি, সিলভারে ১০টি ও আরও চারটি এলইইডি প্রত্যয়ন পেয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে।

বিজিএমইএ জানায়, এর বাইরে ৫৫০টি কারখানা হয় নিবন্ধিত বা ইউএসজিবিসি এর এলইইডি সার্টিফিকেশনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিজিএমইএর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্বের শীর্ষ ১০টি এলইইডি-প্রত্যয়িত কারখানার আটটিই বাংলাদেশে।

২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশের কারখানা এলইইডি সার্টিফিকেশন পাচ্ছে।

রূপান্তর কর্মক্ষমতা, শক্তি, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বেশ কয়েকটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে ইউএসজিবিসি কারখানাগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। এছাড়া সেরা কারখানাগুলোকে যথাক্রমে প্ল্যাটিনাম, গোল্ড ও রৌপ্য সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, সবুজ কারখানায় এই মানদণ্ডগুলো সময়ের সাথে পরিচালন খরচ কমাতে উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করে। যদিও প্রাথমিকভাবে এটি বাস্তবায়ন কিছুটা ব্যয়বহুল।

তবে এই কারখানাগুলো কর্মীদের জন্য একটি নিরাপদ কাজের পরিবেশ দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানি হ্রাস ও দক্ষতার ক্রমবর্ধমান সমস্যাগুলো মোকাবেলা করে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

এছাড়া বিশেষজ্ঞ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাওয়া মতো সবুজ পোশাক কারখানার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বাংলাদেশকে ব্যবসা বৃদ্ধিতে একটি সুবিধাজনক জায়গা দেবে।

ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “এই সময়ে অর্ডার ও রপ্তানি নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও নির্মাতারা এলইইডি-প্রত্যয়িত কারখানার মাধ্যমে ক্রমাগত দেশকে ব্র্যান্ডিং করছেন।”

তিনি বলেন, “বৈশ্বিক অস্থির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে, এই ব্র্যান্ডিংগুলো প্রতিযোগীদের তুলনায় আমাদের ভালো ব্যবসার সুযোগ দিয়েছে। এটি লোকসান মোকাবেলায় সহযোগিতা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “উদ্যোক্তারা এই ব্র্যান্ডিং চালিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ় সংকল্পের সাথে কাজ করছেন। এটি ক্রেতাদের কাছে তাদের আরও ভালোভাবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “যখন বিশ্ব পরিস্থিতি ভালো হবে, তখন আমরা সবার চেয়ে এগিয়ে থাকব।”

পোশাক প্রস্তুতকারকদের মতে, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর গ্রিন ফ্যাক্টরি বিল্ডিংয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেছিল। ওই ঘটনায় ১,১৩৪ জন প্রাণ হারান ও ২,০০০ হাজার জনের বেশি আহত হন।

   

About

Popular Links

x