Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে পোশাক রপ্তানি কমেছে

২০২২ সালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক গন্তব্য থেকে ৪২.৬১ বিলিয়ন মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৩, ১২:১১ এএম

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বৃহত্তম ও দ্বিতীয় বৃহত্তম একক গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি কমেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশ-বিদেশে নির্দিষ্ট পোশাক রপ্তানির তথ্য অনুযায়ী, প্রধান বৈশ্বিক গন্তব্যে রপ্তানিও কমেছে।

অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ ৩১.৩৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। যা ২০২২ এর জুলাই-ফেব্রুয়ারির ২৭.৪৯ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৪.০৬% বৃদ্ধি পেয়েছিল।

এই সময়ে বাংলাদেশী নির্মাতারা একক বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক পণ্য পাঠিয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ৫.৭৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ২.৮৭% কম।

২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম একক রপ্তানি বাজার জার্মানিতে ৪.৬২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পণ্য সরবরাহ করেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ৪.৬৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ১.০৩ % কম।

তবে তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্য যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ৩.৩৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১৪.৫২% পোশাক রপ্তানি করেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ২.৯৩ বিলিয়ন ডলার বেশি।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশ যেমন, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি এবং নেদারল্যান্ডসে পোশাক রপ্তানি যথাক্রমে ১৮.৭৯% বেড়ে  ২.৩৫ বিলিয়ন ডলার, ২৭.৬৫% থেকে ১.৮৯ বিলিয়ন ডলার, ৫৬.১৪% থেকে ১.৫৪ বিলিয়ন ডলার ও ৩১.১২% থেকে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

তবে, আগের কয়েক মাসের মতো, পোল্যান্ডে রপ্তানি আরও ১৫.০৬% বেড়ে ১.০৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

সামগ্রিক ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পোশাক রপ্তানি ২০২২ এর একই সময়ের ১৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৪.২৯% বেড়ে ১৫.৭২ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

কানাডায় রপ্তানি ৯৮০.৯৬ মিলিয়নে পৌঁছেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ৮১৭.১০ মিলিয়ন থেকে ২০.০৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ে ৪.২১ বিলিয়ন থেকে ৩৫.০২% বৃদ্ধির পেয়ে ৫.৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো ও আরও কয়েকটি দেশ অপ্রচলিত বাজার হিসাবে পরিচিত।

অপ্রচলিত বাজারের প্রধান গন্তব্যগুলোর মধ্যে, জাপানে রপ্তানি ১.০৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত অর্থবছরে ৭২৮.৬৫ মিলিয়ন থেকে ৪৭.৬৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভারত থেকে ৭৫৩.৯২ মিলিয়ন আয় করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ৪৬৬.৬১ মিলিয়ন থেকে ৬১.৫৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইপিবির তথ্য অনুসারে, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মেক্সিকোতে অপ্রচলিত বাজার রপ্তানি যথাক্রমে ৩৮.১৮% বেড়ে ৭৬৭.75 মিলিয়ন ডলার, ৩৯.৮১% থেকে ৩৮৭.৬৩ মিলিয়ন ডলার ও ৪১.২৫% থেকে ২৩৯.০৫ মিলিয়ন হয়েছে।

ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, “পোশাকের চালানের প্রবৃদ্ধি মূল্যের ভিত্তিতে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইইউ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরিস্থিতি এতটা ভালো নয়। তারা আগামী তিন বা চার মাসে কোনো ইতিবাচক লক্ষণ দেখছে না। তবে জুন বা জুলাইয়ের পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।”

বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে। আগামী মাসগুলোতে তা অব্যাহত থাকতে পারে।”

তিনি বলেন, “ইউরোপের পরিস্থিতি এখনও ভালো আমরা ২০২৪ সালের জন্য অপেক্ষায় আছি। তখন হয়তো পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জার্মানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক, যা উদ্বেগের বিষয়। আমাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জাপান একটি সম্ভাবনাময় বাজার কারণ এটি একটি মান-সংবেদনশীল বাজার।”

“আমাদের সেখানে ব্যবসা বৃদ্ধির অনেক জায়গা আছে। আমরা ভারতে খুব ভালো করছি। যেহেতু আমরা তাদের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করি ও লিড টাইমও খুব কম তাই ভারতে আমাদের লাভের ভালো সুযোগ রয়েছে,” তিনি যোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে তার বাজার ও পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং সর্বদা ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দিকে নজর দিতে হবে।”

সেন্টার ফর দ্য পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশকে তার রপ্তানির পাশাপাশি বাজারের বৈচিত্র্য আনতে হবে। একটি আঞ্চলিক বাজার তৈরি করাও সহায়ক হবে।”

২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ বৈশ্বিক গন্তব্য থেকে ৪.৬১ বিলিয়ন মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে।

   

About

Popular Links

x