দেশের আরও তিন পোশাক কারখানা আন্তর্জাতিক এলইইডি সনদ পেয়েছে। এ নিয়ে দেশে এলইইডি সনদ পাওয়া পোশাক কারখানার সংখ্যা ১৯৫-এ উন্নীত হলো, যার মধ্যে প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে ৬৯টি কারখানা।
নতুন সনদ পাওয়া কারখানা তিনটি হলো গাজীপুরের ভবানীপুরের ট্রাস্ট নিটওয়্যার গার্মেন্টস বিল্ডিং, ট্রাস্ট নিটওয়্যার ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং বিল্ডিং ইউএসজিবিসি ও গাজীপুর সদরের কোয়াট্রো ফ্যাশন লিমিটেড।
এর মধ্যে গাজীপুরের ভবানীপুরের ট্রাস্ট নিটওয়্যার গার্মেন্টস বিল্ডিং, ট্রাস্ট নিটওয়্যার ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং বিল্ডিং ইউএসজিবিসি পেয়েছে গোল্ড সনদ ও গাজীপুর সদরের কোয়াট্রো ফ্যাশন লিমিটেড পেয়েছে প্লাটিনাম সনদ।
পরিবেশবান্ধব কারখানার দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সবার আগে। বিশ্বের এক নম্বর বা শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানাও এখন বাংলাদেশে।
গত ১২ এপ্রিল গাজীপুরের ভবানীপুরের ট্রাস্ট নিটওয়্যার গার্মেন্টস বিল্ডিং, ট্রাস্ট নিটওয়্যার ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং বিল্ডিং ইউএসজিবিসি নতুন ভবন নির্মাণে ভি৩- লিড ২০০৯ রেটিং সিস্টেম যথাক্রমে ৬১ ও ৬৪ স্কোরসহ লিডবিডি+সি-এর সার্টিফিকেট পেয়েছে।
এছাড়া ৪ এপ্রিল গাজীপুর সদরের কোয়াট্রো ফ্যাশন লিমিটেড ৮৬ স্কোরে এলইইডি ও+এমে প্লাটিনাম সার্টিফিকেট পেয়েছে।
নতুন তিনটি কারখানা এলইইডি সনদ পাওয়ায় বাংলাদেশে এখন মোট ১৯৫ পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা হলো। যার মধ্যে ৬৯টি প্লাটিনাম, ১১২টি স্বর্ণ, ১০টি রূপা এবং ৪টি সনদ পাওয়া কারখানা রয়েছে।
সবুজ কারখানার হালনাগাদ তালিকা শেয়ার করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।
বিশ্বের শীর্ষ ১০টি শীর্ষস্থানীয় কারখানার মধ্যে 8টি বাংলাদেশের এবং প্রথম ১০০টির মধ্যে শীর্ষ ৫৪টি কারখানা বাংলাদেশে রয়েছে।
এছাড়া একটি বাংলাদেশী তৈরি পোশাক কারখানা এখন লিড-প্রত্যয়িত গ্রিন ফ্যাক্টরি হিসাবে ১০৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়।
পোশাক খাতের শীর্ষ সংস্থাটি জানিয়েছে, আরও ৫৫০টি কারখানা আন্তর্জাতিক এলইইডি সনদের অপেক্ষায় রয়েছে।
এরমধ্যে ২০২৩ সালেই এলইইডি সনদ পেয়েছে নয়টি। ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৩০টি কারখানা সনদ পায়।
বাংলাদেশের কারখানা ইউনিট ২০০১ সাল থেকে লিড সার্টিফিকেট পাচ্ছে।
ইউএসজিবিসি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থপতিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কাউন্সিল। পৃথিবীজুড়ে এটি পরিবেশবান্ধব ভবন ও কারখানা নির্মাণে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকে। এমনকি পরিবেশবান্ধব কারখানা বা স্থাপনা তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ডও রয়েছে তাদের।
সংস্থাটির দেওয়া সনদ এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশ্বের বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এ সংস্থার সনদকে গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। এ জন্য ইউএসজিবিসির সনদকে এ দেশের শিল্প উদ্যোক্তারাও বেশ গুরুত্ব দেন।
ইউএসজিবিসির তালিকায় শীর্ষ দশে থাকা সব কারখানা এলইইডি প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। বিভিন্ন মানদণ্ডে ১১০ নম্বরের মধ্যে ৮০ বা তার বেশি নম্বর পায়, এমন কারখানাকে এ সনদ দেওয়া হয়। এলইইডি -এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হচ্ছে লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন।
সনদটি পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন মানদণ্ডে নির্ধারিত মান রক্ষা করতে হয়। নির্ধারিত মান বজায় রেখে নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুরোনো ভবন সংস্কার করেও এ সনদের জন্য আবেদন করতে পারে কারখানাগুলো।
এই কারখানাগুলো কর্মীদের জন্য একটি নিরাপদ কাজের পরিবেশ প্রদান করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানি হ্রাস এবং দক্ষতার ক্রমবর্ধমান সমস্যাগুলি মোকাবেলা করে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
সবুজ পোশাক কারখানার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবুজ চুক্তি এবং বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসা উভয়ের দ্বারা বর্ণিত যথাযথ পরিশ্রমের নির্দেশাবলীর সাথে মোকাবিলা করার জন্য একটি সুবিধাজনক জায়গা দেবে।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর সবুজ কারখানা ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়া বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেছে। ২০১৩ সালের ওই ঘটনায় ১,১৩৪ জনের মৃত্যু ও ২,০০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন।



