Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুই মাস মন্দার পর মে মাসে রপ্তানিতে স্বস্তি

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, টানা দুই মাস পতনের পর, অবশেষে দেশের রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৩, ১০:৪২ পিএম

এ বছরের মার্চ ও এপ্রিলে পরপর দুই মাস নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর মে মাসে ফের রপ্তানি আয় বেড়েছে বাংলাদেশের।

তথ্য বলছে, মে মাসে রপ্তানি ২৬.৬১% বেড়ে ৪.৮৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একইসময়ে ছিল ৩.৮৩ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, টানা দুই মাস পতনের পর, অবশেষে দেশের রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

দেশের সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় করা পোশাক খাতে ২০২৩ অর্থবছরের মে মাসে ৪.০৫ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। যা ২০২২ অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৩.১৫ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ এখানে আয় বেড়েছে ২৮.৩৩%।

চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম এগারো মাসে (জুলাই-মে) মত রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৫০.৫১ বিলিয়ন ডলার। যা ২০২২ সালের জুলাই-মে মাসের ৪৭.১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ৭.১১% বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম এগারো মাসে রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

ইপিবি তথ্য অনুসারে, পোশাক খাত ছাড়া প্রধান রপ্তানিকারক শিল্পে চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম এগারো মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে এটি যদিও কিছুটা বেড়েছে।

পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বছরে ১০.৬৭% বেড়ে অর্থবছরের (২০২২-২৩) জুলাই-মে মাসে ৪২.৬৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ৩৮.৫২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়েছে।

ইপিবি তথ্য অনুযায়ী, নিটওয়্যার সেক্টর ২৩.২৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের থেকে ১০.৯২% বেশি। যেখানে তৈরি পোশাক আয় করেছে ১৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ০.৪২% থেকে ১.১২ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ১১.১১ বিলিয়ন ডলার ছিল।

হোম টেক্সটাইল (বিছানার চাদর, বালিশের কভার, পর্দা ইত্যাদি) খাতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অর্থবছরের (২০২২-২৩) জুলাই-মে মাসে এই খাতটি ১.০২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ১.৪৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩০.১৪% কমেছে।

কৃষি খাতেও অর্থবছরের (২০২২-২৩) জুলাই-মে ত্রৈমাসিকে ৭৯৫.০১ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৭.৭৮% কম। আগের বছরের একই সময়ে এই খাতে আয় হয়েছিল ১.১০ বিলিয়ন ডলার।

এ সময়ে পাটজাত পণ্য থেকে আয় ১৯.৫৭% কমে ৮৪৮.৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা আগের অর্থবছরে ১.০৫ বিলিয়ন ডলার ছিল।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশের আরেকটি প্রতিশ্রুতিশীল খাত প্রকৌশল খাতে অর্থবছরের (২০২২-২৩) জুলাই-মে ত্রৈমাসিকে ৫১৮.৯৭ মিলিয়ন ডলারের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির সাক্ষী হয়েছে। যা আগের অর্থবছরে একই সময়ে ৭১৮.৬৬ মিলিয়ন ডলার ছিল।

রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “গত বছরের মে মাসের তুলনায় এই আয় বেড়েছে।”

তিনি বলেন, “গত বছরের মে মাসে রমজান ও ঈদুল ফিতরের কারণে ১৮-২০ কর্মদিবস ছিল, তাই গত বছরের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে।”

“এছাড়া এপ্রিলের বেশ কয়েকটি বিলম্বিত শিপমেন্ট মে মাসে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, যা রপ্তানি আয়কে প্রভাবিত করেছে।”

“ক্রয়াদেশ বাড়ছে না, কারখানাগুলো তাদের ক্ষমতার ৬০%-৭০% এ কাজ করছে এবং উন্নতির কোনো সঠিক লক্ষণ নেই, তিনি যোগ করেন।”

“পশ্চিমা দেশগুলো মুদ্রাস্ফীতির কারণে সুদের হার বাড়িয়েছে। যার ফলে ভোক্তাদের কাছে দাম অত্যধিক বেড়েছে। তাদের পোশাক ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস করেছে। যার ফলে খুচরা দোকানে পণ্য পড়ে আছে,” আজিম আরও বলেন।

“ক্রেতারা একটি ধীর গতির নীতিতে রয়েছে যার জন্য রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। এই বছর পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে পারে কারণ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ যে কোনো সময় শীঘ্রই শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই,” তিনি যোগ করেন।

ঢাকা ট্রিবিউনের সাথে আলাপকালে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এটি একটি ইতিবাচক বিষয়। তবে গত বছরের মে মাসে ঈদুল ফিতর ছিল, ফলে এটি বৃদ্ধির হার কম।”

“লক্ষণীয় বিষয় হল পোশাক খাতের রপ্তানি যখন বাড়ছে, তখন অন্যান্য খাত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখছে, যদিও চামড়া, পাট ইত্যাদির মতো নন-আরএমজি পণ্যগুলোতে দেশীয় মূল্য সংযোজন বেশি,” তিনি আরও বলেন।

অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নন-আরএমজি পণ্যে মূল্য সংযোজন ৯০%-৯৫% ও আরএমজিতে ৫০%-৫৫%, যার অর্থ রপ্তানি বেড়েছে কিন্তু নিট আয় যথেষ্ট নয়।”

তিনি বলেন, “পণ্য বৈচিত্র্য, বাজার বৈচিত্র্য, লিড টাইম সমস্যা, ব্যবসা করার উচ্চ ব্যয় এবং আরও অনেক কিছুর অভাব থাকায় বাংলাদেশ কম প্রতিযোগিতামূলক। একারণে অবমূল্যায়নের পরেও রপ্তানি আয় বাড়ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত করতে আমাদের এই সব ঠিক করতে হবে। আরএমজি এবং নন-আরএমজি উভয় পণ্যের জন্য। যদি তা না হয় তবে এটি একটি উদ্বেগজনক সংকেত হবে। কারণ রপ্তানির নেতিবাচক বৃদ্ধি পরবর্তীতে জাতীয় রিজার্ভের উপর চাপ তৈরি করবে।”

২০২২ অর্থবছরে রপ্তানিতে ৩৪.৩৮% বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ৫২.০৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

   

About

Popular Links

x