Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১,৩৩৩ কোটি টাকা

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মার্চ মাসের শেষে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৩, ১১:৫০ পিএম

এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে তিন মাসে ৩৫ টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১,৩৩৩ কোটি টাকা। মার্চ মাসের শেষে এসব প্রতিষ্ঠানে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে যা ছিল ১৬ হাজার ৮২১ কোটি টাকা। গত বছরের খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ২৩২ কোটি টাকা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এসব তথ্য জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমীক্ষা অনুসারে, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তহবিলে তারল্য সমস্যা, জনগণের আস্থার অভাব এবং ব্যাংক আমানত উত্তোলনের কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছরের মার্চ মাসে মোট বকেয়া ঋণের ২৫.০৫% খেলাপি হয়েছে। ফলে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বকেয়া ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ২৬৫ কোটি টাকবা। যা গত বছরের  ডিসেম্বরে ছিল ৭০ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাস পর্যন্ত খেলাপি ঋণের শীর্ষে ছিল পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ৯৯.৬২%; এর পরের অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির ৯৬.৯০%, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৪.২৫%। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের খেলাপি ৯০.৯৩%, ফার্স্ট ফাইন্যান্সের খেলাপি ৮৯.৬৩%, ইউনিয়ন ক্যাপিটালের খেলাপি ৫৩.২৫%, আইআইডিএফসির খেলাপি ৫০.২০%, প্রিমিয়ার লিজিংয়ের ৪৮.৮৮%, উত্তরা ফাইন্যান্সের ৪৫.৭৫%, জিএসপি ফাইন্যান্সের ৪২.৭%, ন্যাশনাল ফিন্যান্সের ৪৩.৩৮%, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্সের খেলাপি ৩৩.৮৩%, এবং আভিভা ফাইন্যান্সের খেলাপি ৩০.০২%।

একই সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানে কমেছে আমানতও। ৩৫টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিসেম্বরের তুলনায় মার্চ শেষে আমানত কমেছে ৫৩.৮ কোটি টাকা।  আমানতে সুদের হার ৬% করে এসব প্রতিষ্ঠান তারল্য বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ব্যাংকের অর্থ উত্তোলন ও সংস্থাগুলোর প্রতি জনগণের আস্থার অভাবের কারণে এই খাতে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শেল কর্পোরেশনকে উচ্চ সুদে ঋণ দিয়েছে। সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় খেলাপির পরিমাণ বাড়ছে। নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে চলে। বর্তমানে দেশে ৩৫টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এর মধ্যে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখতে পেরেছে। বাকিদের অবস্থা নড়বড়ে।

About

Popular Links