Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২০.৬৫%

২০২৩ সালে ২০.৬৫% কম ১৭.৩৮ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক পণ্য আমদানি করেছে ইইউ জোটভুক্ত দেশগুলো

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:২৬ পিএম

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে পোশাকের আমদানি কমিয়েছে।

ইইউ পরিসংখ্যান অফিস ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ২০.৬৫% কম ১৭.৩৮ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক পণ্য আমদানি করেছে জোটভুক্ত দেশগুলো।

বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য ইইউ ২০২২ সালে ২১.৯১ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক পণ্য আমদানি করেছিল।

২০২৩ সালে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক পণ্য রপ্তানি ১৬.৫৩ কমে ১১.১৪ বিলিয়ন কেজি হয়েছে। যা ২০২২ সালে ১৩.৩৪ বিলিয়ন কিলোগ্রাম থেকে কম।

২০২৩ সালে ইইউতে নিটওয়্যার থেকে আয় এসেছে ১০.৬৪  বিলিয়ন ইউরো। ২০২২ সালে আয় হয়েছিল ১৩.৯৫ বিলিয়ন ইউরো।

চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পরিণতি হিসাবে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার আবির্ভূত হওয়ার কারণে ইইউতে প্রায় সব প্রধান পোশাক সরবরাহকারীর রপ্তানি কমেছে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানি ১৬.২২% কমে ৮৩.১৯ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। যা ২০২২ সালে ছিল ৯৯.২৯ বিলিয়ন ইউরো।

রপ্তানিকারকদের মতে, বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান সুদের হার ভোক্তাদের চাহিদা হ্রাস করেছে। যার ফলে ইইউ ক্রেতাদের খুচরা দোকানে পণ্যের মজুত বেড়েছে। আর নতুন করে পণ্য কিনছে না দেশগুলো।

তথ্যে দেখা গেছে দেশের প্রধান প্রতিযোগীদের মধ্যে, ২০২৩ সালে চীন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক আমদানি ২১.৫৪% কমে ২২.৭৩ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে, যা ২০২২ সালে ছিল ২৮.৯৮ বিলিয়ন ইউরো।

মূল্যের দিক থেকে চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক হিসাবে রয়ে গেছে। তবে আয়তনের দিক থেকে ২০২৩ সালে বাজারে সর্বোচ্চ পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২২ সালে আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশ ইইউতে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে আবির্ভূত হয়।

চীন ২০২৩ সালে ১১.১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম পোশাক পণ্য রপ্তানি করেছে। 

২০২৩ সালে তুরস্ক থেকে ইইউর পোশাক আমদানি ১৩.২৩% কমে ৯.৯৩ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে, যা ২০২২ সালে ১১.৪৫ বিলিয়ন ইউরো ছিল।

ইইউ তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ইইউতে ভারতের পোশাক রপ্তানি ২০২২ সালের ৪.৬৫ বিলিয়ন ইউরোর তুলনায় ১৩.১২% কমে ৪.০৪ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে।

ভিয়েতনাম থেকে ২০২৩ সালে ৩.৭৮ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে ইইউ। যা ২০২২ সালের ৪.৪৩ বিলিয়ন ইউরো থেকে কম।

কম্বোডিয়া থেকে ৩.২০ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে ইইউ। যা ২০২২ সালের ৩.৭০ বিলিয়ন ইউরো থেকে কম।

কম্বোডিয়া থেকে ৩.১০ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে ইইউ। যা ২০২২ সালের ৩.৭৯ বিলিয়ন ইউরো থেকে কম।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “যুদ্ধের কারণে চাহিদা কমেছে, যার ফলে সুদের হার এবং মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে, যার ফলে পণ্যের তালিকা বেড়েছে।”

তিনি বলেন, “ক্রেতারা গত বছর জুড়ে কম হারে কাজের আদেশ দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আয়তনের দিক থেকে রপ্তানিতে শীর্ষে থাকলেও মূল্যের দিক থেকে দ্বিতীয় বাংলাদেশ। মূল বিষয় হচ্ছে দাম।”

শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, “চীন, ভিয়েতনাম উচ্চ মূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পণ্য রপ্তানি করে। যেখানে বাংলাদেশ প্রধানত মৌলিক পণ্য রপ্তানি করে। এটি মূল্যের দিক থেকে আমাদের দ্বিতীয় স্থানে ঠেলে দিয়েছে। তাছাড়া, ন্যায্য মূল্য এখনও একটি সমস্যা।”

২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ২৫.০৭% কমে ৭.২৯ বিলিয়ন হয়েছে, যা ২০২২ সালে ৯.৭২ বিলিয়ন থেকে।

ইপিবি বলছে, ২০২৩ বাংলাদেশের সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি ৩.৬৭% বেড়ে ৪৭.৩৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। যা ২০২২ সালের ৪৫.৭১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেশি।

এ বিষয়ে আজিম বলেন, “ইপিবি, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের মধ্যে গরমিল থাকতে পারে।”

তিনি বলেন, “আমরা সবসময় তাদের তথ্য প্রকাশে আরও সতর্ক হওয়ার জন্য অনুরোধ করি। কারণ এটি ক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিভ্রান্ত করে।”

   

About

Popular Links

x