Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মার্চে রপ্তানি আয় ছাড়িয়েছে পাঁচ বিলিয়ন ডলার

এ বছরের মার্চে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫.১৫ বিলিয়ন ডলার

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০১:০২ পিএম

দেশে এ অর্থবছরের (২০২৩-২৪) মার্চ মাসে রপ্তানি আয় এসেছে ৫.১০ বিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের (২০২২-২৩) ৪.৬৪ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৯.৮৮% ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লাভ করেছে।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে চলমান অর্থবছরে টানা চার মাসে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি আয় করেছে বাংলাদেশ।

এ বছরের মার্চে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫.১৫ বিলিয়ন ডলার। গত মাসের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ০.৮৮% কম ছিল।

দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়কারী পোশাক খাত মার্চে আয় করেছে ৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ১১.৭১% ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লাভ করেছে।

ইপিবির তথ্য বলছে, এ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) আয় ৪.৩৯% বেড়ে ৪৩.৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৪১.৭২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেশি।

ইপিবি জানিয়েছে, জুলাই-মার্চ রপ্তানির পরিসংখ্যান ৪৬.২৭ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫.৮৬% কম।

এ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পোশাক খাত ৩৭.২০ বিলিয়ন ডলার আয় করছে। যা  আগের অর্থবছরের ৩৫.২৫ বিলিয়ন ডলার থেকে কম।

পোশাক পণ্যের মধ্যে নিটওয়্যার রপ্তানি ২১.০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই পণ্য থেকে আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৬.২০ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯.৫৯% ও ০৪৭% ইতিবাচক বৃদ্ধি পেয়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে এবং ডলারের বাজারে অস্থিরতা কমবে।

পোশাক খাতে কিছুটা আয় বাড়লেও জুলাই-মার্চে অন্য খাতে রপ্তানি আয় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখেছে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খাতের মধ্যে, হোম টেক্সটাইল ২৫.৯৮% নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি চিহ্নিত করে আয় করেছে ৬৩৬.৫৩ মিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের মধ্যে ৮৫৯.৯৪ মিলিয়ন ডলার থেকে কম।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যও ১৩.৬৫% আয় কমে এসেছে ৭৯৪.১৯ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের এর প্রথম আট মাসে ৯১৯.৭৩ মিলিয়ন ডলার ছিল।

এ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ের মধ্যে, কৃষি পণ্য থেকে রপ্তানি আয় ৭১৫.৮৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ৬৭৭.৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে ৫.৬০% কমেছে।

পাট ও পাটজাত দ্রব্য থেকে রপ্তানি প্রাপ্তি আবার ৫.৬০% আয় কমে এসেছে ৬৫৯.৫৪ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের জুলাই-মার্চের ৬৯৮.৭ মিলিয়ন ডলার থেকে কমেছে।

আরেকটি সম্ভাব্য রপ্তানি খাত, প্রকৌশল পণ্যে আয় ২.৭৭% কমে এসেছে ৩৮৯.১৮ মিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ৩৮৯.১৮ মিলিয়ন ডলার থেকে কম।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, “জানুয়ারি থেকে পোশাক খাতের শিপমেন্টে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যা প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, “পোশাক রপ্তানিকারকরা বহুমুখী ফাইবারসহ উচ্চ-মূল্যের এবং নতুন পণ্য উত্পাদন করতে বিনিয়োগ করেছে, যা রপ্তানি বাড়াতে সহায়তা করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “কিছু নতুন বাজার যেমন- জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যও প্রবৃদ্ধির বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।”

ফারুক হাসান বলেন, “পোশাক রপ্তানিকারকরা আগামী দিনে আরও ভাল করবে, কারণ বেশিরভাগ ব্র্যান্ড ইতিমধ্যে তাদের তালিকা স্পষ্ট করেছে।”

তিনি বলেন, “২০২২ সালে একটি বড় ধাক্কার পরে, বেশিরভাগ ব্র্যান্ড ও ক্রেতা পশ্চিমা বিশ্বে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে তাদের ব্যবসায় মন্দার সম্মুখীন হয়েছিল, যা নির্মাতাদের প্রভাবিত করেছিল।”

ফারুক হাসান বলেন, “মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যেই কমছে। কিছু দেশ তাদের সুদের হারও কমিয়ে দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডাও এই বছরের মে-জুনের মধ্যে তাদের সুদের হার কমাতে পারে, যা তাদের গ্রাহকদের পোশাকের জন্য ব্যয় করতে সহায়তা করবে।”

তিনি বলেন,  “শিল্প গত বছরে কিছু চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠেছে, যেমন গ্যাসের দাম, মজুরি বৃদ্ধি এবং পোশাকের চাহিদার বৈশ্বিক মন্দা, তিনি যোগ করেছেন যে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পোশাক প্রস্তুতকারকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

একই কথা বলছেন বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।

তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক বাণিজ্য প্রবণতা একটি হতাশাজনক অবস্থার পরিস্থিতি তুলে ধরছে। দেশের জন্য, ইতিবাচক দিকটি হলো আমরা ধীরে ধীরে আমাদের পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে সক্ষম হচ্ছি।”

ইপিবির তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় অর্জন করেছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৬.৬৭% বেড়েছে।

   

About

Popular Links

x