Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এপ্রিলে কমেছে রপ্তানি আয়

এ বছরের এপ্রিলে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪.৭ বিলিয়ন ডলার, তবে আয় এসেছে ১৬.৭৮% কম

আপডেট : ০৮ মে ২০২৪, ১১:৩৩ পিএম

এ অর্থবছরের (২০২৩-২৪) এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় এসেছে ৩.৯২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের (২০২২-২৩) একই মাসে ছিল ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে এই মাসে আয় কমেছে ০.৯৯%।

সম্প্রতি প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, টানা তিন মাস ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর, এপ্রিলে রপ্তানি খুব সংকীর্ণ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখেছে।

এ বছরের এপ্রিলে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪.৭ বিলিয়ন ডলার, তবে আয় এসেছে ১৬.৭৮% কম।

দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়কারী পোশাক খাত এ অর্থবছরের (২০২৩-২৪) এপ্রিল মাসে ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

অর্থাৎ এটি ১% সামান্য কম আয় করেছে। যা আগের অর্থবছরে ৩.৩৩ ছিল বিলিয়ন ডলার।

ইপিবির তথ্য বলছে, এ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) আয় ৪৭.৪৭ বিলিয়ন ডলার এসেছে। যা আগের অর্থবছরের ৪৫.৬৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩.৯৩% বেশি।

তবে, জুলাই-এপ্রিলের রপ্তানির পরিসংখ্যান বলছে, এটি ৫০.৯৭ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬.৮৭% কম।

এ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পোশাক খাত ৪০.৪৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩৮.৫৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪.৯৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।

কম রপ্তানি

পোশাক পণ্যের মধ্যে নিটওয়্যার রপ্তানি এসেছে ২২.৮৮ বিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৭.৬১ বিলিয়ন ডলার। এটি ৯.১১% বেড়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, এপ্রিল মাসে ঈদ-উল-ফিতরের কারণে ১০-১২ দিন কারখানা বন্ধ ছিল। ফলে কম পণ্য উত্পাদন হয়েছে, কম কাজের আদেশ এসেছে ও অন্যান্য মাসের বিবেচনায় কম পণ্য পাঠিয়েছে।

এ কারণেই, পণ্য রপ্তানিও হ্রাস পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের মতো প্রতিটি দীর্ঘ ছুটিতে এটি দেশের জন্য একটি স্বাভাবিক সমস্যা।

রপ্তানি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এ অর্থবছরের একটি হতাশাজনক অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিক দেখেছে দেশ। যদিও আরএমজি খাত ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসে ও জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।

তবে এ অর্থবছরের এপ্রিলে খাতটি আবারও নেতিবাচক রপ্তানি আয় বৃদ্ধির সাক্ষী হয়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, পোশাক খাত এ অর্থবছরের চারটি পৃথক একক মাসে নেতিবাচক উপার্জন দেখেছে। তবে কাজের আদেশ থাকায় বছরের শেষে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যাবে বলে আশা কড়া হচ্ছে।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে তারা ভালো পরিমাণে অর্ডার পাচ্ছেন, তবে দাম এখনও কম।”

তিনি বলেন, “আশা করি, এই অর্থবছরে সামগ্রিকভাবে বছরের পর বছর রপ্তানি বৃদ্ধি ইতিবাচক হবে।”

অন্য খাতেও আয় কমেছে

পোশাক খাত ছাড়াও রপ্তানিতে দেশের অন্য খাতে জুলাই-এপ্রিল সময়কালে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

এরমধ্যে এ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এসেছে এক বিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে এসেছে ৮৭২.৪৫ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৩.৩২% কম।

এছাড়া এক সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল খাত হোম টেক্সটাইল থেকে এসেছে ৭০২ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ৯৪০.৮ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৫.৩২% কম।

এ অর্থবছরের (২০২৩-২৪) জুলাই-এপ্রিল সময়ের মধ্যে কৃষি পণ্য থেকে রপ্তানি আয় ৬.১২% ইতিবাচক বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের অর্থবছরে এই খাত থেকে এসেছিল ৭৭৪.৪৯ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ৭২৯.৮ মিলিয়ন ডলার।

পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় ৭.০৫% নেতিবাচক বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের অর্থবছরে এই খাত থেকে এসেছিল ৭৭০.৮২ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ৭১৬.৪৪ মিলিয়ন ডলার।

প্রকৌশল পণ্য থেকে আয় ০.৪% নেতিবাচক বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের অর্থবছরে এই খাত থেকে এসেছিল ৪৩৮.১১ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৩৬.৩৫ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, “এপ্রিল মাসে ঈদের সময় শ্রমিকরা দীর্ঘ ছুটি ভোগ করায় কারখানার উৎপাদন কমে যায়।”

“তবে সামগ্রিক আরএমজি রপ্তানি আদেশের পরিমাণ খারাপ নয়। আমি মনে করি আয় এই মে ঘুরে আসবে,” তিনি যোগ করেন।

এফবিসিসিআই-এর একজন পরিচালক হাসান বলেন, “গত দুই অর্থবছরে নন-আরএমজি রপ্তানি কর্মক্ষমতা খুবই খারাপ হয়েছে এবং সরকারের উচিত সেদিকে নজর দেওয়া।”

“আমাদের বুঝতে হবে যে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে স্নাতক হবে। এর পরে, অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হবে। এটি মোকাবেলা করার জন্য, আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। পণ্য বৈচিত্র্য এটির অন্যতম প্রধান সমাধান,” তিনি যোগ করেছেন।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় অর্জন করেছে, যা বছরে ৬.৬৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।

   

About

Popular Links

x