দেশে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতে বর্তমানে পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা ২১৭। এপ্রিল মাসে পরিবেশসম্মত সবুজ কারখানার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন বা এলইইডি সনদ পেয়েছে আরও দুইটি পোশাক কারখানা। এ নিয়ে দেশের সবুজ কারখানা বেড়ে ২১৭টিতে দাঁড়ায়।
২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৩০টি কারখানা সনদ পেয়েছে। বাংলাদেশের কারখানা ইউনিট ২০০১ সাল থেকে লিড সার্টিফিকেট পাচ্ছে।
বিজিএমইএ-এর তথ্য বলছে, ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত কেসি বটম অ্যান্ড শার্ট ওয়্যার কোম্পানি ইউএসজিবিসি থেকে এলইইডি ও+এম, ভবনে ভি৪.১ রেটিংয়ে ৮১ নম্বরসহ প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে।
এছাড়া গাজীপুরের এমটি সোয়েটারস লিমিটেড ইউএসজিবিসি থেকে এলইইডি ও+এম, ভবনে ভি৪.১ রেটিংয়ে ৮২ নম্বরসহ প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে।
ইউএসজিবিসি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থপতিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কাউন্সিল। পৃথিবীজুড়ে এটি পরিবেশবান্ধব ভবন ও কারখানা নির্মাণে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকে। এমনকি পরিবেশবান্ধব কারখানা বা স্থাপনা তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ডও রয়েছে তাদের।
সংস্থাটির দেওয়া সনদ এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশ্বের বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এ সংস্থার সনদকে গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। এ জন্য ইউএসজিবিসির সনদকে এ দেশের শিল্প উদ্যোক্তারাও বেশ গুরুত্ব দেন।
ইউএসজিবিসির তালিকায় শীর্ষ দশে থাকা সব কারখানা এলইইডি প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। বিভিন্ন মানদণ্ডে ১১০ নম্বরের মধ্যে ৮০ বা তার বেশি নম্বর পায়, এমন কারখানাকে এ সনদ দেওয়া হয়। এলইইডি-এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হচ্ছে লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন।
সনদটি পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন মানদণ্ডে নির্ধারিত মান রক্ষা করতে হয়। নির্ধারিত মান বজায় রেখে নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুরোনো ভবন সংস্কার করেও এ সনদের জন্য আবেদন করতে পারে কারখানাগুলো।
এই কারখানাগুলো কর্মীদের জন্য একটি নিরাপদ কাজের পরিবেশ দেয়।
বর্তমানে দেশে ৮৩টি প্ল্যাটিনাম, ১২০টি গোল্ডেন, ১০টি সিলভার সনদ ও চারটি সবুজ সনদ প্রত্যয়িত কারখানা রয়েছে। সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ ২১৭টি সনদ পাওয়া কারখানা নিয়ে বাংলাদেশ সবুজ কারখানায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি এলইইডি সনদ পাওয়া সবুজ কারখানার মধ্যে ৫৫টি বাংলাদেশে রয়েছে।
সবুজ কারখানায় শীর্ষে থাকার মধ্য দিয়ে পোশাক খাতকে টেকসই করার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে নির্মাতারা।
দেশের আরও ৫৫০ কারখানা এলইইডি সনদ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
২০১২ সালে পোশাকশিল্প উদ্যোক্তা সাজ্জাদুর রহমান মৃধার হাত ধরে প্রথম পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার যাত্রা শুরু হয় দেশে। পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে স্থাপিত কারখানাটি হলো ‘‘ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও।” এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে সবুজ পোশাক কারখানার সংখ্যা।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানি হ্রাস এবং দক্ষতার ক্রমবর্ধমান সমস্যাগুলি মোকাবেলা করে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
সবুজ পোশাক কারখানার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবুজ চুক্তি এবং বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসা উভয়ের দ্বারা বর্ণিত যথাযথ পরিশ্রমের নির্দেশাবলীর সাথে মোকাবিলা করার জন্য একটি সুবিধাজনক জায়গা দেবে।
ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “বাংলাদেশের পোশাক খাত টেকসইতার দিকে যে অবিশ্বাস্য অগ্রগতি করছে তা রোমাঞ্চকর।”
তিনি বলেন, “এলইইডি সনদ পাওয়া কারখানার বৃদ্ধি সবুজ ভবিষ্যতের জন্য আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারের একটি সত্য প্রমাণ, এটি একটি গেম-চেঞ্জার ঘটনা।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের মধ্যে পরিবেশ-সচেতন পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশ এলইইডি সনদ পাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই লড়াইয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ শুধু পরিবেশ রক্ষাই করছে না, তারা বিশ্বব্যাপী দায়িত্বশীল খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করছে।”
মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “শক্তিশালী ব্র্যান্ডের খ্যাতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগ আকর্ষণ করে পোশাক খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সফলতা লাভ করছে। ফলে এটি আমাদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে দিচ্ছে।”
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর সবুজ কারখানা ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়া বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেছে। ২০১৩ সালের ওই ঘটনায় ১,১৩৪ জনের মৃত্যু ও ২,০০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন।



