যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আরও ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৪০ পিস মুরগির ডিম আমদানি করা হয়েছে। এ নিয়ে ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সর্বমোট ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৬০ পিস ডিম আমদানি করা হলো।
শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ডিমের চালান বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। শুল্কায়নসহ প্রতি পিসের দাম পড়েছে ৭ টাকার কিছু বেশি।
জানা গেছে, নভেম্বরের মধ্যে সরকারের প্রথম ঘোষণার ৫০ লাখ ডিমের আরও ৪০ লাখ ডিম আমদানি করা হবে। ইতোমধ্যে ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৩১০ পিস ডিম আমদানি করা হয়েছে। ঘাটতি পূরণে সরকার আরও সাড়ে চার কোটি মুরগির ডিম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। সেগুলোও পর্যায়ক্রমে আমদানি করা হবে।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ভারত থেকে প্রতিটি ডিম কেনা হয়েছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা দরে। প্রতিটি ডিমের আমদানি শুল্ক ১ টাকা ৮৩ পয়সা। সব মিলিয়ে একটি ডিমের দাম পড়ছে সাড়ে সাত টাকার একটু বেশি।
বেনাপোল কাস্টমস হাউস সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে পাঁচ চালানে ভারত থেকে মুরগির ডিম আমদানি করা হয়েছে ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৩১০টি। এসব ডিম বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। ঢাকার “হাইড্রো ল্যান্ড সল্যুশন” নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ডিমগুলো আমদানি করেছে।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হাইড্রো ল্যান্ড সল্যুশনের প্রতিনিধি শাহ আলম বলেন, “দুই মাসের মধ্যে ৫০ লাখ ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ১০ সেপ্টেম্বর এর সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। এর মধ্যে মাত্র দুটি চালানে প্রায় ৩ লাখ ডিম আমদানি করার সুযোগ হয়। রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতির কারণে আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়। এজন্য আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও দুই মাসের সময় বাড়িয়েছে মন্ত্রণালয়। যেটি নভেম্বরে শেষ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত থেকে প্রতিটি ডিম কেনা হয়েছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা দরে। অথচ প্রতিটি ডিমের শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে ১ টাকা ৮৩ পয়সা (অন্যান্য খরচসহ)। এই শুল্ক ৫০ পয়সার নিচে রাখলে বাজারে ডিমের দাম অনেক কমে যেত।”
ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত সাড়ে সাত টাকায় প্রতিটি ডিম আমদানি হলেও পরিবহন, শ্রমিক, ওয়েস্টেজ (নষ্ট ডিম) বাবদ প্রতিটি ডিমে আরও কমপক্ষে ৩ টাকা খরচ হয়। আমদানি করা প্রতিটি ডিম ১০.৬০ টাকা থেকে ১০.৭০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হয়।
বেনাপোল কাস্টমসের চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমদানি করা ডিমের শুল্কায়নসহ প্রতিটির দাম পড়েছে সাড়ে সাত টাকার মতো। গত বছরের ৫ নভেম্বর আসে প্রথম চালান, এরপর দ্বিতীয় চালান আসে চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর। ভারত থেকে ডিমের আরও তিনটি চালান আসে গত ৬, ৭ ও ১৯ অক্টোবরে। গত বছর ঢাকার বিডিএস কর্পোরেশন একই দামে ভারত থেকে ৬১,৯৫০টি ডিম আমদানি করেছিল।”



