সরকারের চাহিদার তুলনায় ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে অর্থের যোগান বেশি থাকায় ট্রেজারি বিল-বন্ডে সুদহার আরও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে বিল ও বন্ডে সুদহার কমেছে ১০৭ থেকে ১৮১ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত। ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে বিল ও বন্ডে সুদহার কমেছিল ১০ থেকে ২৯ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত।
জানা গেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারির নিলামে ৯১ দিনের ট্রেজারি বিলের সুদহার ছিল ১০.৩৫%। আর সবশেষ ১৭ জানুয়ারির নিলামে ৯১ দিনের ট্রেজারি বিলে সুদহার ছিল ১১.৪২%। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে সুদহার কমেছে ১০৭ বেসিস পয়েন্ট।
একইসঙ্গে ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮০ দিনের ট্রেজারি বিলে সুদহার দাঁড়ায় ১০.২৪%। তার এক মাস আগে ছিল ১১.৪২%। সে হিসাবে সুদহার কমেছে ১১৮ বেসিস পয়েন্ট।
এদিকে, ফেব্রুয়ারিতে ৩৬৪ দিনের টেজারি বিলের সুদের হার দাঁড়ায় ১০.৩৫%। জানুয়ারিতে ছিল ১১.৯৫%। এ ক্ষেত্রে সুদহার কমেছে ১৬০ বেসিস পয়েন্ট।
আর ফেব্রুয়ারিতে দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ হার ছিল ১০.৯৮%, যা আগের মাসে ছিল ১২.১৮%।
ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ দাঁড়িয়েছে ১০.৪৭%; জানুয়ারিতে ছিল ১২.১০%। সেই হিসাবে সুদহার কমেছে ১৬৩ বেসিস পয়েন্ট।
১০ বছর মেয়াদি বন্ডে সুদের হার দাঁড়িয়েছে ১০.২৭%। গত মাসে ছিল ১২.০৮%। সে হিসাবে সুদহার কমেছে ১৮১ শতাংশ পয়েন্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদি বন্ডের নিলাম হয়নি।
উল্লেখ্য, ট্রেজারি বিল এক ধরনের স্বল্পমেয়াদি আর্থিক ঋণপত্র, যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকার থেকে জারি করা হয়। মেয়াদ হয় ৯১ থেকে ৩৬৪ দিন পর্যন্ত। ট্রেজারি বিল নিরাপদ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবেও পরিচিত। কারণ এর ওপর সুদ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে।
আর ট্রেজারি বন্ড হলো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঋণপত্র। এটাও সরকার জারি করে। মেয়াদ হয় ২ বছর থেকে ২০ বছর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা জানান, ধারণা করা হচ্ছে ফেব্রুয়ারির যে কয়েক দিন বাকি আছে, সেখানে ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ হারও কমবে। ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদের হার কমে যাওয়ার কারণ হলো সরকারের চাহিদার চেয়ে অর্থের যোগান বেশি পাওয়া যাচ্ছে।



