সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর দেশের দ্বিতীয় বিমানবন্দর হিসেবে সিলেট থেকে মালবাহী বিমান চলাচল শুরু হলো।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৮টা ৫ মিনিটে প্রথমবারের মতো ৬০ টন গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে কার্গো বিমানের একটি ফ্লাইট সিলেট থেকে স্পেনের উদ্দেশে উড়াল দেয়। যার মধ্যদিয়ে সিলেট থেকে বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।
এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম এই কার্গো ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।
এ সময় মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব নাসরিন জাহান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবির ভূঁইয়া।
এ সময় উপদেষ্টা বশির উদ্দিন বলেন, "সিলেটে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মাইলফলক।"
স্বাধীনতার পর সিলেট বিমানবন্দর প্রথম মালবাহী কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ অনুসারে, ভারতে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধ হওয়ার পর আমরা সিলেট থেকে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী দিনে আমরা পরিবহন খরচ কমানোর পরিকল্পনা করেছি। পতিত স্বৈরাচারী সরকার দেশের উৎপাদনশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে গেছে। আমরা সেই দ্বায়ভার বহন করছি।”
তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয়ক্ষেত্রে বিমানভাড়া কমানোর ওপর জোর দেন।
তিন আরও বলেন, “আমরা চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছি।”
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব নাসরিন জাহান বলেন, “সিলেট থেকে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করা সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের দাবি। আমরা ঢাকা বিমানবন্দরের চাপ কমাতে চাই। আমরা চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে কার্গো ফ্লাইট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছি।”
সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিলেট থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালু করতে কার্গো কমপ্লেক্স ও টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দক্ষ জনবল ও অত্যাধুনিক নিরাপত্তা যন্ত্রপাতি সংস্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের র্যাপিড স্ক্যানিং মেশিন থেকে শুরু করে সব যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হয়েছে। জনবল নিয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।



