Wednesday, September 30, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং: ৪৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার-অর্থদণ্ড

অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় এসব শাস্তি দেওয়া হয়েছে

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় এসব শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি জানানো হয়। তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় বুধবার বিকেলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ জুলাই র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় আইন বিভাগের পাঁচজন, ১৯ আগস্টের ঘটনায় মার্কেটিং বিভাগের ১৯ জন, ৯ আগস্টের ঘটনায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ জন এবং ২২ জুলাইয়ের ঘটনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্ত ৪৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে কয়েকজনকে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে দ্বিগুণ হারে জরিমানা দিতে হবে।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সল বলেন, “তিনটি ক্যাটাগরিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে বহিষ্কার অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থদণ্ড। শিক্ষার্থীরা যাতে নিজেদের ভুল সংশোধনের সুযোগ পায়, সে জন্য প্রথমবারের মতো জরিমানার বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ হলে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় মোট ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এসব শাস্তি অবশ্যই কার্যকর করা হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি বিভাগে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং বিভাগগুলোও প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে। প্রাথমিকভাবে চারটি বিভাগ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এসব প্রতিবেদনে যেসব শিক্ষার্থীর নাম এসেছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।”

তবে একটি বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ না থাকায় পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। নতুন প্রতিবেদনে নামসহ তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানান প্রক্টর।

প্রক্টর বলেন, “ভবিষ্যতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।”

গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় এসব শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

   

About

Popular Links

x