Monday, November 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১৪ শিক্ষক, এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী মাত্র একজন; সেই শিক্ষার্থীও ফেল

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ স্বর্ণা রানী বিশ্বাস

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার একটি কলেজে ১৪ জন শিক্ষক থাকলেও এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী।

শনিবার(৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে সেই শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ স্বর্ণা রানী বিশ্বাস।

কলেজটির নাম দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। ১৯৮৮ সালে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৯ সালে কলেজ শাখা চালু করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ১৪ জন শিক্ষকই এমপিওভুক্ত এবং তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা পান।

এ বছর শুধু মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে কোনো পরীক্ষার্থী ছিল না।

কলেজের এমন ফলাফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা বলরাম ওঝা, নির্মল বিশ্বাস ও শুভেন্দু সরকার বলেন, কলেজে পড়াশোনার ভালো পরিবেশ নেই, তাই শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে চায় না। এ অবস্থার জন্য তারা পরিচালনা পর্ষদ, অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের দায়ী করেন। তাদের মতে, কলেজ শাখা চালু রাখার চেয়ে বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।

অধ্যক্ষ স্বর্ণা রানী বিশ্বাস বলেন, “কলেজটি গ্রামে হওয়ায় শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। শিক্ষকেরাও নিয়মিত কলেজে আসেন না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারেও তাদের আগ্রহ নেই। আমি নিজের টাকা খরচ করে কলেজটি চালানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু ভালো ফল পাচ্ছি না।”

প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার বলেন, “কলেজ শাখা চালুর সময় শিক্ষক ছিলেন। পরে এমপিওভুক্ত হতে না পেরে অনেকে চলে গেছেন। এখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী দুই সংকটই রয়েছে। তাই কলেজ শাখা বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো হবে।”

কলেজের সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেন, “আমি এক সপ্তাহ আগে সভাপতির চিঠি পেয়েছি। এখনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সভা করতে পারিনি। তাই এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানি না।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম বলেন, “আমাদের দপ্তর স্কুল পর্যায়ের বিষয়গুলো দেখাশোনা করে। কলেজ শাখা আমাদের দায়িত্বে নেই। এটি ঢাকা অঞ্চলের একজন পরিচালক দেখভাল করেন। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির বলেন, “কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেছেন বলে জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”

   

About

Popular Links

x