পর্দার মতো বাস্তবেও ছিল তাদের প্রেম। তবে একসময় সেই প্রেম ভেঙে যায়। এরপর আর প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা হয়নি তাদের। অবশেষে ১০ বছর পর গতকাল এক মঞ্চে দেখা মিলল ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা দেব ও শুভশ্রীর। অনেক আগে কৌশিক গাঙ্গুলীর ‘‘ধূমকেতু’’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন এই জুটি। অবশেষে সিনেমাটি গত ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। সেই সিনেমার ট্রেলার মুক্তির অনুষ্ঠানে গত ৪ আগস্ট উপস্থিত হয়েছিল দেব-শুভশ্রী।
মঞ্চে হাতে হাত রেখেই প্রবেশ করেন তারা। এরপর একে একে দূরত্ব ঘুঁচাতে শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে খুনসুটিতে মেতে ওঠেন তারা। প্রসঙ্গে ওঠে ইনস্টাগ্রামে ব্লক করার। শুভশ্রী জানান, দেবই তাকে ব্লক করেছিল। এদিন মঞ্চে ফিরেই পরস্পরকে ইনস্টাগ্রামে অনুসরণ করেন।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা দেব।

১০ বছর পর মুক্তি পেল দেব-শুভশ্রীর ‘‘ধুমকেতু”। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর দেবের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘ধূমকেতু নিজের কপাল নিয়ে জন্মেছে। ১০ বছরে এই সিনেমা কত কী দেখল! সিনেমা মুক্তি নিয়ে আমার আর সিনেমার প্রযোজক রানা সরকারের কত ঝামেলা। শুভশ্রীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া। তার পর শুভর বিয়ে। সবকিছুর মধ্যেই রানার সঙ্গে এক চ্যানেল কর্তৃপক্ষের সমস্যা তৈরি হলো। এত কিছু পেরিয়ে সিনেমাটির মুক্তি ভীষণ কঠিন ছিল। কিন্তু সব ভালো যার শেষ ভালো। এখন মনে হচ্ছে, ‘ধূমকেতু’ যা পাচ্ছে নিজের ভাগ্যের জোরেই পাচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে, পাঁচ বছর আগে মুক্তি পেলে সিনেমাটি এই সাফল্য পেত না। ১০ বছর পরে মুক্তি পাওয়ার ফলাফল হিসেবে সকাল ৭টাতেও প্রেক্ষাগৃহে লোকভর্তি। সকাল ৯টাতেও। একইভাবে প্রত্যেকটি শো-তে এক সিনেমা চলছে। পাশেই কিন্তু ‘‘ওয়ার ২’’ চলছে। সেখানে এই ভিড় কই? বার বার মনে হয়েছে, এই পরিশ্রম সার্থক, এই লড়াই সার্থক। তাই প্রতীক্ষাও সার্থক। আমার জেদ ছিল, সিনেমাটিকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে মুক্তি দেব। পুরনো সিনেমা বলে অবহেলা করব না। আমার সেই জেদ জিতে গেল।”

‘‘পাগলু’’ বা ‘‘দেশু’’ সিনেমার অনুরাগীরা নতুন এই দেবকে দেখে খুশি কি না জানতে চাইলে এই অভিনেতা বলেন, ‘‘যারা ‘পাগলু’ দেখে বড় হয়েছেন, তারাও পরিণত হয়ে গিয়েছেন। তারা শুধুই নাচগানের সিনেমা দেখলে এখনও ওই ধারার সিনেমাই তৈরি হত। অন্য ধারার সিনেমা তৈরি হত না। দর্শকরাও কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা দেখছেন। ‘খাদান’ করে এটা বুঝতে পারলাম। ওই সিনেমা দেখতে শুধুই ‘পাগলু’ ভক্তরা আসেননি। তা হলে মাল্টিপ্লেক্স হাউসফুল করতে পারতাম না। দর্শক ভালো সিনেমা দেখার জন্য তৈরি। তারা কিন্তু সিনেমার সমালোচনা পড়ে দেখতে আসেন। এই সিনেমা দেখতেও সব বয়সিরাই ভিড় করেছেন।”
সিনেমার প্রচারের সময় নজরুল মঞ্চে দেব-শুভশ্রীর রসায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘ওই মঞ্চটা কিসের জন্য ছিল? আমাদের সিনেমার প্রচারের জন্য। এটা তো সত্যি! আবারও বলছি, অনেকটা সময় আমরা পেরিয়ে এসেছি। একটা সময় আমি আর শুভশ্রী একসঙ্গে ছিলাম। তার পর অনেকটা পথ আমরা আলাদা হেঁটেছি। গত ১২ বছর ধরে তো রুক্মিণীর সঙ্গেই আছি। শুভর সঙ্গে হয়তো তিন-চার বছর ছিলাম। ওরও জীবন বদলে গিয়েছে। আমাদের নিয়ে অনেকটা ‘নেগেটিভিটি’ ছিল। কখনও ও বলেছে, কখনও আমিও বলেছি। তার থেকে তৈরি এই নেতিবাচকতা যেভাবেই হোক মুছতে হবে, এই ভাবনা নিয়ে সে দিন আমরা মঞ্চে উঠেছিলাম। অনেক ভালো স্মৃতি রয়ে গিয়েছে আমাদের সঙ্গে। সেই বার্তা দেওয়ারই উদ্দেশ্য ছিল। সে সবই ভাগ করে নিতে চেয়েছি। যেন আমাদের অনুরাগীরাও সেই ভালো মুহূর্তগুলো, স্মৃতিগুলো উদ্যাপন করেন। এর বাইরে আর কিছু না। এ জন্যই তো প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন। এ সব শুভশ্রীকেও জানানো হয়েছিল। ওই যে ‘খাদান-সন্তান’ কিংবা পরস্পরকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসরণ না করা, চার বছর নষ্ট হয়েছে- এ গুলোই তো ‘পাবলিক’ জানতে চেয়ে এসেছে এত বছর ধরে! তাই সব বলেছি প্রকৃত সত্য সামনে আনতে। যাতে যাবতীয় ভুল বোঝাবুঝি মিটে যায় ওই দিন। সাক্ষী অগণিত দর্শক। যাতে সবাই বুঝতে পারেন, এই ভাবেও ফিরে আসা যায়।”

সত্যিই কি প্রথম ভালবাসা থেকে যায়- এমন প্রশ্নের জবাবে দেব বলেন, ‘‘আমার মনে হয় না। সবটাই পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আমরা সবাই এগিয়ে যাই। এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন। অতীতে বসবাস মানে বর্তমানকে অসম্মান। এটা আমি নই। সেই জায়গা থেকেই বলব, সবাই সুখে থাকুক, ভাল থাকুক।” একটু নীরব থেকে আবার বলতে শুরু করেন, ‘‘জানি, কেন এই প্রশ্ন। শুভশ্রীর সঙ্গে কাজ করছি, আর রুক্মিণীর কথা একটু আগেই উঠল, তাই। রুক্মিণী না থাকলে এই সিনেমাটা এত ভালো করে হত না। ও কিন্তু প্রথম দিন থেকে এই সিনেমার সঙ্গে আছে। বাকিদের মতো গত কয়েকদিন রুক্মিণীও একটাই প্রশ্ন করেছে, ‘তুমি খুশি তো?’ সে জানে, এই সিনেমার পেছনে আমার ইগো, সম্মান, জেদ, লড়াই- সব উজাড় করে দিয়েছি। বাকি সব কিছু ভুলে গিয়েছিলাম। জানি না আপনারা বুঝতে পারছেন কি না।”



রাজ: দেবের ‘প্রাক্তন বান্ধবী’ শুভশ্রী আমার স্ত্রী, প্রত্যেকেরই অতীত রয়েছে