Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বক্স অফিসে ‘মাইকেল’ ঝড়, প্রথম সপ্তাহে আয় ২১৭ মিলিয়ন ডলার

বায়োপিক ঘরানার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে প্রথম সপ্তাহে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড ভেঙেছে এই সিনেমাটি

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক “মাইকেল” মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিসে তুমুল সাড়া ফেলেছে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ২১৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে সিনেমাটি নতুন রেকর্ড গড়েছে। সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বায়োপিক ঘরানার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে প্রথম সপ্তাহে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড এখন “মাইকেল”-এর দখলে। এর আগে ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “স্ট্রেট আউটা কম্পটন” এই তালিকায় শীর্ষে ছিল, যার আয় ছিল প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার। সেই রেকর্ড অনায়াসেই ছাড়িয়ে গেছে নতুন এই বায়োপিক।

মাইকেল সিনেমায় দেখানো হয়েছে জ্যাকসনের শৈশব, “দ্য জ্যাকসন ফাইভ”-এর সঙ্গে তার যাত্রা, বাবার কঠোর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি, একক শিল্পী হিসেবে সুপারস্টার হয়ে ওঠা এবং ১৯৮৮ সালের “ব্যাড” ট্যুরের জাঁকজমকপূর্ণ কনসার্টের মাধ্যমে সমাপ্তি। কোনো বিতর্কিত অংশই রাখা হয়নি। মাইকেল সিনেমার গল্প শুরু হয় ছোট্ট এক শিশুকে দিয়ে।

প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত “মাইকেল” প্রযোজনা করেছে লায়ন্সগেট, ইউনিভার্সাল পিকচার্স এবং মাইকেল জ্যাকসন এস্টেট। বড় বাজেট, শক্তিশালী বিপণন এবং বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তের আগ্রহ–সব মিলিয়ে ছবিটি যে বক্স অফিসে ঝড় তুলবে, তা আগেই অনুমান করা হয়েছিল। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই সেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে সিনেমাটি।

মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়, বিশেষ করে ১৯৯৩ সালের অভিযোগ—প্রথমে গল্পে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরে আইনি জটিলতার কারণে তা বাদ দিতে হয়েছে। ফলে নির্মাতাদের গল্পের ফোকাস সরিয়ে আনতে হয়েছে তার পরিবার, বিশেষ করে বাবা জো জ্যাকসনের সঙ্গে সম্পর্কের দিকে, যা ছবির আবেগঘন স্তরকে আরও গভীর করেছে।

সিনেমাটির নির্মাণপ্রক্রিয়াও ছিল জটিল ও বিতর্কে ঘেরা। এই ছবিতে সঙ্গীতের স্বত্ব, বিশাল কনসার্টের দৃশ্য এবং পুনরায় শুটিং, সব মিলিয়ে খরচ বেড়েছে কয়েক ধাপে। বিশেষ করে ছবির তৃতীয় অংশ নিয়ে বড় পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

তবে, সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। অনেকেই মনে করছেন, ছবিটি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো এড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকের অভিযোগগুলো নিয়ে ছবিতে খুব বেশি গভীরে যাওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের  ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে এক সাধারণ পরিবারে জন্ম তার। বাবা জো জ্যাকসনের কঠোর শাসনে বড় হওয়া সেই শিশুটি খুব দ্রুত বুঝে যায়, মঞ্চই তার নিয়তি।

“দ্য জ্যাকসন ফাইভ”-এর সঙ্গে গান গাইতে গাইতে সে হয়ে ওঠে দলের প্রাণ। তবে এই গল্প শুধু সাফল্যের নয়; এটি চাপ, প্রত্যাশা এবং হারিয়ে যাওয়া শৈশবের গল্পও। সময়ের সঙ্গে সেই শিশুটি হয়ে ওঠে এক তরুণ শিল্পী। তখনই বিশ্ব দেখে এক বিস্ফোরণ। “থ্রিলার”।

এই অ্যালবামে শুধু গান নয়, এটি ছিল এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব। বিলি জেন কিংবা বিট ইট প্রতিটি গান যেন একেকটি দৃশ্য, একেকটি গল্প। চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে হঠাৎ এক পা এক পা করে পিছিয়ে যাওয়া। সেই মুনওয়াক। সেই মুহূর্তেই মাইকেল জ্যাকসন হয়ে ওঠেন এক মিথের নাম। কিন্তু যত আলো, ততই যেন গাঢ় হয় ছায়া। খ্যাতির চূড়ায় দাঁড়িয়ে মানুষটি ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলেন নিজের ব্যক্তিগত জীবন। বিতর্ক, অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের তীব্র নজর। সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন এক জটিল চরিত্র।

   

About

Popular Links

x