কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে থমকে গেছে ব্রাজিলের স্বপ্ন। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সব আশা জলাঞ্জলি দিয়ে শুক্রবার রাতে দোহার এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেই ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন কাতার বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত দর্শক ইভানা নল; সাবেক মিস ক্রোয়েশিয়া।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নিজ দেশকে সমর্থন জানাতে কাতারে অবস্থান করছেন তিনি। কাতার বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত দর্শক হওয়ার মূল কারণ, তিনি স্টেডিয়ামে খোলামেলা পোশাকে উপস্থিত হন।
কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কাতার কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলো, স্টেডিয়ামের মধ্যে খোলামেলা পোশাক পরা যাবে না। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে প্রতি ম্যাচেই হাজির হয়েছিলেন তিনি। তার পোশাক দেখে অবাক হন কেউ কেউ, অনেকেই সুন্দরী মডেলের সঙ্গে ছবি তুলতে এগিয়ে আসেন।
শুক্রবার ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে খোলামেলা পোশাকে স্টেডিয়ামে ঢুকতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে ইভানা নলকে। এ সময় তার পরনে ছিল লাল রঙের অন্তর্বাস ও একটি লেগিংস।
একজন দর্শক ইভানা নলের সঙ্গে ছবি তুলছেন/ সংগৃহীতওইদিন ইভানা নল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে প্রবেশের সময় অনেক দর্শক তার সঙ্গে ছবি তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনিও অনেকের সেলফিতে পোজ দেন। ওই সময় তাকে বাধা দেন স্টেডিয়ামে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা। তারা ইভানাকে সিঁড়ি দিয়ে হাঁটতে নিষেধ করেন।
এমনকি কারও সঙ্গে ছবি তুলতেও তাকে নিষেধ করা হয়।
ব্রিটেনের ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ইভানা নল। তিনি বলেছিলেন, “বিষয়টিতে আমি খুব রাগান্বিত। আমিতো মুসলমান না। আমরা যদি ইউরোপে হিজাব-নিকাবকে সম্মান দিতে পারি, তাহলে তাদেরও উচিৎ আমাদের জীবনধারাকে সম্মান করা।”
তিনি আরও বলেন, “কাতারের উচিৎ আমাদের ধর্ম এবং পোশাককে সম্মান দেওয়া। আমি একজন ক্রোয়েশিয়ার ক্যাথলিক, এখানে এসেছি শুধুমাত্র বিশ্বকাপের জন্য, নিজের দেশকে সমর্থন জানানোর জন্য।”
ইভানা নল গণমাধ্যমকে বলেন, “তারা আমাকে আমার ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলতে দেয়নি। এছাড়া রেলিংয়ের কাছে গিয়েও ছবি তুলতে দেয়নি। তখন তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেন এত বাজে ব্যবহার করছে আমার সঙ্গে! কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি।”



