চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ও নেতৃত্ব ঘিরে জটিলতার অবসান হয়েছে। আদালতের আদেশের পর এবার কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল থেকে দূরে থাকা শিল্পীরাও দূরত্ব ঘুচিয়ে নিলেন।
রবিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে শিল্পী সমিতির সাধারণ সভা।
এ সময় সমিতির কার্যালয়ে এসে হাসিমুখে নিপুণকে বরণ করে নিয়েছেন অন্য শিল্পীরা। একইদিনে কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও অভিনেতা আলীরাজ।
গত ২১ নভেম্বর আদালত আদেশ দেন, নিপুণই সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকবেন।
এরপর সম্প্রতি সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন ও সাধারণ সম্পাদক নিপুণ মিশা-জায়েদ খানের প্যানেল থেকে বিজয়ী শিল্পীদের চিঠির মাধ্যমে আহ্বান জানান সমিতিতে আসার। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে জয়লাভ করা ডিপজল ও রুবেলসহ অন্যরা এফডিসিতে আসেন ও আনুষ্ঠানিকভাবে নিপুণকে বরণ করে নেন।
এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রিয়াজ, অঞ্জনা, সাইমন, ইমন, জয় চৌধুরী, শাহনূর, কেয়া, জাদু আজাদসহ শিল্পী সমিতির অনেকেই।
আলীরাজ ও মৌসুমীকে শপথবাক্য পাঠ করান ইলিয়াস কাঞ্চন, পাশে ছিলেন নিপুণ/ সংগৃহীতশপথগ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করে মৌসুমী বলেন, “ভালো লাগছে সবাইকে একসঙ্গে পেয়ে। সবকিছুর অবসান হলো, আমরা আবার সব এক হয়ে গেলাম।”
অন্যদিকে সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, “আজ অত্যন্ত ভালো লাগছে যে সবাই আছে। এবং এটাই আমি চেয়েছিলাম। কিছু করতে না পারলে আমি কোনও দায়িত্ব নিতে চাই না। আমার খুব কষ্ট লাগছিল যে নয় মাস পার হয়ে গেছে, যতটুকু করার ইচ্ছে, তা করতে পারছিলাম না। একটা যন্ত্রণা, ক্ষোভ কাজ করেছে। আজ সেই যন্ত্রণার অবসান হয়েছে।”
শিল্পী সমিতির সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক ইমন বলেন, “মৌসুমী আপা আজ শপথ নিয়েছেন। পাশাপাশি ডিপজল ভাই, রুবেল ভাইসহ নির্বাচিত প্রত্যেকেই শিল্পী সমিতিতে এসেছিলেন। তারা নিপুণকে বরন করে নিয়েছেন। আমাদের মধ্যে এখন আর কোনো বিভেদ নেই।”
তিনি বলেন, “প্রত্যেকে বহুদিন পর জমিয়ে আড্ডা দিয়েছি। নির্বাচনের পর বিভিন্ন ঘটনায় আমরা প্রায় একবছর পিছিয়ে গিয়েছি। এবার একসাথে এগুতে চাই।”
ডিপজল বলেন, “সমিতির মধ্যে বিভাজন ও দ্বন্দ্ব চাইনি, পছন্দও করিনি। বরাবরই বলে এসেছি, চলচ্চিত্র ও শিল্পীদের স্বার্থে আমাদের একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে হবে। নীতিগতভাবে আমাদের প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে আমরা সমর্থন দিয়ে এসেছি। যেহেতু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আমরা আদালতের রায়ের অপেক্ষা করেছি। আর শুরু থেকেই বলেছি, আদালত যে রায় দেবেন তা সবার মেনে নিতে হবে।”
ডিপজল বলেন, “আদালতের তরফ থেকে জানা গেছে, নিপুণের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মিটিংয়ে অংশ নিয়ে সমিতির কার্যক্রম গতিশীল করা আমার দায়িত্ব। সদস্যরা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আমি যদি সেই দায়িত্ব পালন না করি, তাহলে তাদের কাছে কী জবাব দেব?”
গত ২৮ জানুয়ারি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল কাঞ্চন-নিপুণ ও মিশা-জায়েদ দুটি প্যানেল। নির্বাচনের পর সাধারণ সম্পাদক পদটি নিয়ে শুরু হয় নানা জটিলতা। যা জনমনে তীব্র সমালোচনা ও হাসির খোরাক জুগিয়েছিল। অবশেষে সেটার অবসান হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস শিল্পীদের মনে।



