পাট থেকে বায়োপলিমার আবিষ্কারক দেশের বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খানকে নিয়ে নির্মিত হচ্ছে প্রামাণ্যচিত্র “দ্য জুটম্যান”। প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতা হাসান শাওন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখন প্রাথমিক গবেষণার কাজ চলছে, দ্রুত শুরু হবে শুটিং।
২০১৬ সালে বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খান পাটের সেলুলোজ থেকে বায়োপলিমার উদ্ভাবনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এরপর তা থেকে উদ্ভাবন করেন পচনশীল পলিমার ব্যাগ। যা একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ব্যাগের উপযুক্ত বিকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ব্যাগের নামকরণ করেন “সোনালী ব্যাগ”।
বিজ্ঞানী মোবারক আহমদ খানের জন্ম ১৯৫৮ সালের ৩১ জানুয়ারি মানিকগঞ্জের ডাউলি গ্রামে। তিনি ১৯৭৩ সালে মানিকগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৭৫ সালে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯১ সালে তিনি পলিমার রসায়নে পিএইচডি করেন। পরে জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক পোস্ট ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। বিদেশের বহু কোম্পানি তাকে কাজের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু দেশে ফিরে এ মানুষটি তার কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে।
১৯৮৪ সালে ড. মোবারক আহমদ খান যোগ দেন পরমাণু শক্তি কমিশনে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন এই বিজ্ঞানী। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানবিষয়ক বহু জার্নালে তার অনেক গবেষণাপত্র ছাপা হয়েছে। জাতীয় পাট পুরস্কার, বাংলাদেশ বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির স্বর্ণপদক, জাতীয় পরিবেশ পদকসহ বেশ কিছু সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি।
এ বিজ্ঞানীকে নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রকাশনা “হুজ হু”–তে নিবন্ধ ছাপা হয় ১৯৯৮ সালে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা।
“দ্য জুটম্যান” প্রামাণ্যচিত্র প্রসঙ্গে ড. মোবারক আহমদ খান বলেন, “তরুণ নির্মাতা হাসান শাওনের ‘দ্য জুটম্যান’ প্রামাণ্যচিত্রের ধারণাটি আমার পছন্দ হয়েছে। দেশের গর্বের পাটশিল্প বিশ্ববাজারে এখন পর্যন্ত উন্নত জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। অথচ পাট নিয়ে আমরা বিশ্বে গর্বিত হতে পারি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পচনশীল পাট পণ্যের গুরুত্ব অসাধারণ। আশা করছি, ‘দ্য জুটম্যান’ প্রামাণ্যচিত্রে বিষয়টি উঠে আসবে। আর একটি বিষয় আমার ভালো লেগেছে যে, দেশের বিজ্ঞানীদের নিয়ে ভিজুয়াল ফর্মেটে কাজের আগ্রহ। যা একেবারেই ব্যতিক্রম।”
প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতা হাসান শাওন “দ্য জুটম্যান” প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের গ্রহের এক ভয়াবহ সমস্যার সমাধান পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী। সারা বিশ্বের ক্লাইমেট অ্যাকটিভিস্টরা উজ্জীবিত হবেন ‘দ্য জুটম্যান’ দেখে। প্রামাণ্যচিত্রটি যেন বিশ্ব পর্যায়ে দেশকে গর্বিত করে সে ধরনের দৃশ্যভাষা নির্মাণে সক্রিয় আছি।”
“দ্য জুটম্যান” প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতা হাসান শাওনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার মিরপুরে। তিনি পড়াশোনা করেছেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বাঙলা কলেজ, বাংলাদেশ সিনেমা অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটে। ২০০৫ সাল থেকে তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। কাজ করেছেন সমকাল, বণিক বার্তা, ক্যানভাস ম্যাগাজিন ও আজকের পত্রিকা ও দৃক নিউজে। ২০২০ সালে হাসান শাওনের প্রথম বই “হুমায়ূনকে নিয়ে” প্রকাশিত হয়।



