ভারতের পাঁচ শতাধিক সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক “মুজিব: একটি জাতির রূপকার” সিনেমাটি।
শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশের ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার সিনেমাটি মুক্তি পায়।
বিএফডিসির গণসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রী বড়ুয়ার বরাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।
হিমাদ্রী বড়ুয়া জানান, শুক্রবার থেকে চলতি সপ্তাহের পুরোটাজুড়ে ভারতের ৫০৩টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে “মুজিব”। প্রতিদিন ৬৮২টি শো প্রদর্শিত হবে ছবিটির। এরমধ্যে মুম্বাইয়ে সর্বোচ্চ ১০৩টি হলে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। কলকাতায় ১০০টি ও দিল্লির ৭৫টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। ভারতের ১২টি অঞ্চলে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে।
এর আগে ২৫ অক্টোবর মুম্বাইয়ের ন্যাশনাল মিউজিয়ামের থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হয় “মুজিব”। এতে সিনেমা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ও ভারতের চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন ও প্রতুল কুমার।
প্রিমিয়ারে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে “মুজিব” নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল বলেছেন, “সত্যি বলতে এই ছবির নির্মাণকাজ আমি উপভোগ করেছি। আমি সম্মানিত যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মুজিবের কন্যা ছবিটি পছন্দ করেছেন।”
ছবিটির একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল। তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বললেন, “এই ছবির অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত। এটা বাস্তব জীবনের গল্প এবং এক মহান ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বের একটা উপহার বলা যেতে পারে ছবিটিকে। আমি মনে করি, এটা এমন এক গল্প যেটা পুরো জাতির সামনে আনা প্রয়োজন। সত্যিই এর অংশ হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।”
আরিফিন শুভ বলেন, “শ্যাম বেনেগাল স্যারের সঙ্গে এটা আমার চার বছরের একটা জার্নি। যেটা আমি সারা জীবন মনে রাখবো। আর এই যে ইতিহাস বা গল্প, এটা শুধু বাংলাদেশের না। ৪৭ থেকে ৫২ এবং এরপর ৭১ সাল; ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক পুরোনো। এটা যদিও আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী, কিন্তু এখানে এমন অনেক কিছু আছে, যেটা দেখে আপনারা বুঝতে পারবেন দুই দেশ মিলে পরস্পরের জন্য কত কী করেছে।”
মুজিব সিনেমার আদ্যোপান্ত
গত ১৩ অক্টোবর সারাদেশে মুক্তি পায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বায়োপিক “মুজিব: একটি জাতির রূপকার”। ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিনেমাটির প্রযোজনায় রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। বাংলাদেশ মোট অর্থের ৫০ কোটি ও ভারত ৩৩ কোটি টাকা দিয়েছে। ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি এ বায়োপিকের শুটিং শুরু হয় ভারতের মুম্বাই ফিল্ম সিটিতে। শেষ হয় একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশে।
এ বছরের ৩১ জুলাই দুই দেশের সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পায় সিনেমাটি। আগামী ২৭ অক্টোবর ভারতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
সিনেমাটি শেখ মুজিবের বায়োপিক হলেও এটি জাতির পিতা শেখ মুজিবকে পুরোপুরি ধারণ করেনি। শেখ ফজিলাতুন্নেসার বয়ানে এই মুজিব “পারিবারিক মুজিব” তবে এতে রাজনীতির অংশটিও আছে। রাজনীতি থাকলেও চলচ্চিত্রটির নির্মাতা পারিবারিক মুজিবকে ফোকাস করেছেন। সিনেমাটির রাজনৈতিক স্ক্রিপ্ট সংশোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফজিলাতুন্নেসার বয়ানটিও অনেকটা শেখ হাসিনার ভাষ্যে তৈরি হওয়া। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন শ্যাম বেনেগাল।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন নিরীহ গ্রামের মেয়ে, যে তার স্বামীকে রাজনীতিতে আসতে দিতে চায় না- সেখান থেকে ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কীভাবে ধীরে ধীরে বঙ্গবন্ধুর সার্থক অর্ধাঙ্গিনী হয়ে উঠেছিলেন সেটিই মুখ্য হিসেবে চলচ্চিত্রটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
সিনেমায় বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। ফজিলাতুননেছা মুজিবের চরিত্রে রয়েছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, শেখ হাসিনার চরিত্রে নুসরাত ফারিয়া, আর তাজউদ্দীন আহমদের চরিত্রে রিয়াজ আহমেদ।
অন্যান্য চরিত্রে করেছেন দিলারা জামান, চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ, জায়েদ খান, খায়রুল আলম সবুজ, ফেরদৌস আহমেদ, দীঘি, রাইসুল ইসলাম আসাদ, গাজী রাকায়েত, তৌকীর আহমেদ ও মিশা সওদাগরসহ দেশের শতাধিক অভিনয় শিল্পী।



