Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিচ্ছেদের বিষয়ে যা বললেন মাহির স্বামী রাকিব

  • নির্বাচনি প্রচারণায় একসঙ্গে দেখা গেলেও আলাদা বাসায় থাকছেন গত বছরের জুন থেকে
  • রাকিবের মোবাইল ফোনে আসা একটি এসএমএস থেকে আলাদা থাকার শুরু
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৪:৩৯ পিএম

স্বামী রাকিব সরকারের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা মাহিয়া মাহি। বিয়ের আড়াই বছরের মাথায় এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তায় নিজেই বিষয়টি জানান এই নায়িকা নিজেই। ওই ভিডিওতে মাহি বলেন, স্বামী রাকিবের প্রতি এখনও তার সম্মান রয়েছে।

এ সময় ছেলের জন্য দোয়া চান মাহি। নিজের ছেলেসহ যেকোনো শিশুদের নিয়ে বাজে মন্তব্য না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান এই চিত্রনায়িকা।

এরপর থেকে ছেলে ফারিশকে নিয়েই সময় কাটাচ্ছেন ঢাকাই ছবির এই নায়িকা। সেসব ছবি ফেসবুকে শেয়ারও করছেন। আবার কখনো কখনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার ছবির সঙ্গে ফেসবুকে মাঝে মধ্যে স্ট্যাটাস লিখছেন মাহি।

তবে বিচ্ছেদের ঘোষণার পর প্রায় দুই সপ্তাহ মাহির স্বামী রাকিব সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অবশেষে তিনি মুখ খুলেছেন। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বিষয়ে।

রাকিব সরকার বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই কথা বলেন প্রথম আলোর সঙ্গে। জানান, শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবেও কিছুটা বিধ্বস্ত, তাই চিকিৎসার জন্য গেছেন থাইল্যান্ডে।

সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। নির্বাচনি প্রচারণার পুরোটা সময়জুড়েই তার পাশে ছিলেন স্বামী রাকিব। তবে সেসময় একসঙ্গে দেখা গেলেও তারা নাকি আলাদা থাকতে শুরু করেছেন আরও আগে থেকেই।

গত বছরের জুন থেকে তারা মোটামুটি আলাদা থাকা শুরু করেছেন উল্লেখ করে রাকিব সরকার বলেন, “আমি ও মাহি উত্তরায় আলাদা বাসায় থাকতাম। পাশেই মাহির মায়ের বাসা। আমার মোবাইল ফোনে আসা আমারই পরিবারেরই একজনের একটি এসএমএসকে কেন্দ্র করে মাহির মন খারাপ হয়। সেই থেকে মাহি আমার বাসা থেকে তার মায়ের বাসায় চলে যায়। এরপর তাকে বাসায় ফেরানোর চেষ্টা করি, পারিনি। একটা পর্যায়ে আমি নিজেই মাহির কাছে তার মায়ের বাসায় উঠি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের সদস্যরা মিলেও বোঝাতে পারিনি। একসময় একটু বুঝেছে, আবার আরেক সময় উল্টে গেছে। এভাবেই আলাদা থাকার দিনগুলো চলে আসছি। যেটি বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াচ্ছে।”

তিনি বলেন, “মাহি যে বিচ্ছেদ চাইছে, বিচ্ছেদ চাওয়ার মতো ঘটনা আমাদের মধ্যে ঘটেনি। মাহি ঘোষণা দেওয়ার পরও আমি এতদিন এ বিষয়ে কথা বলিনি তার প্রতি ভালোবাসা থেকে। সংসারটি বাঁচানোর জন্য। যদি বিচ্ছেদ চাইতাম, তাহলে সবার সঙ্গে কথা বলতে পারতাম। কী কারণে আমরা বিচ্ছেদ চাইছি, সেসব বিষয় তুলে ধরতে পারতাম, কিন্তু আমি তা করিনি। মাহির পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত এসেছে, আমি মনে করি, তা এখন নিরানব্বই ভাগই বিচ্ছেদের পথে। এক ভাগ নিয়েও আমি এখনো আশাবাদী, চেষ্টা করে যাচ্ছি। সংসারটা আমি টেকাতে চাই। কারণ, আমি যখন মাহিকে বিয়ে করি, তখন আমার পরিবার রাজি ছিল না। তাদের অমতেই বিয়ে করেছি। বিভিন্ন বাধা থাকা সত্ত্বেও মাহির প্রতি ভালোবাসায় বিয়ে করেছি তাকে।”

ঠিক কী কারণে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে রাকিব সরকার প্রথম আলোকে বলেন, “তার আগে কিছু কথা বলতে হবে আমাকে। মাহিকে বিয়ের পর থেকে তার প্রতিটি কথাই আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। বিশ্বাস করেন, মাহিকে বিয়ে করার পর আমার মা, বোন ছাড়া কোনো মেয়ের সঙ্গে আমি কথা বলিনি। আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক কারণেও কোনো মেয়ের বিষয় এলেও কথা বলিনি। মাহি অনুমতি দিলে বলেছি। কোনো মেয়ে ফোন করলে, মাহি কাছে থাকলে ফোন ধরেছি, না থাকলে ধরিনি। গত তিন বছরে আমার মায়ের কাছে মনে হয় তিন দিন যাওয়া হয়েছে। আমার আগের ঘরের (স্ত্রীর) এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাদেরও তো ভবিষ্যৎ আছে। মাহিও তাদের পছন্দ করে। কাছাকাছি রাখতে চেয়েছে। কিন্তু আমি গত তিন বছরে মনে হয় ১০-১৫ দিনও ছেলে-মেয়েকে কাছে পাইনি। ছেলে-মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বললেও লাউড স্পিকারে কথা বলেছি। মাহির প্রতি ভালোবাসা রেখে এর চেয়ে ত্যাগ আর কি করতে পারি আমি? মাহি আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসা দিয়েছে। আমাকে বিপদ থেকেও রক্ষা করেছে সে। তার দেওয়া যেকোনো শর্তই আমি মেনে চলেছি। এমনকি আমার ফোন, ফেসবুক আইডি, হোয়াটসঅ্যাপের অ্যাকসেস-সবই মাহির কাছে। মাহি এখন যে বিভিন্ন স্ট্যাটাস, ভিডিও দিচ্ছে। কোথাও কিন্তু আমাকে দোষ দিচ্ছে না। কারণ, তার প্রতি যে আমার অগাধ ভালোবাসা, সেটা সে জানে। কিন্তু আমাদের সংসারজীবনের একটা পর্যন্ত এসে এমন কিছু শর্তে পড়ে গিয়েছিলাম, যেটি মানতে পারিনি আমি। সেই শর্তের কথা বলতে চাই না। যেসব কারণেই হয়তো আজকের এই অবস্থা।”

আবারও আগের স্ত্রী কাছে ফিরে যাচ্ছেন, এমন গুঞ্জনের বিষয়ে রাকিব সরকার বলেন, “না, এ রকম কোনো কিছুর সুযোগ নাই। আসলে মাহি নিজের মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে ভয় পায়। এটি তো জীবন নয়। এভাবে ভয় নিয়ে চলতে থাকলে আমাদের দুজনের জন্যই ক্ষতি। আমি আমার সন্তানদের দেখভাল করার সুযোগ পাব না, কাছে পাব না- এটা তো হয় না। মাহি আমাকে এক্সট্রিম পর্যায়ে ভালোবাসে, হয়তো এসব কারণেই ওর মধ্যে ভয় ভর করে।”

২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাকিবকে বিয়ে করেন মাহিয়া মাহি। তাদের একমাত্র ছেলে সন্তানের নাম ফারিশ। এর আগে, ২০১৬ সালে সিলেটের ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপুকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন মাহি। সেই সংসার টিকেছিল পাঁচ বছর।

   

About

Popular Links

x