চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচনের ভোট হয় গত ১৯ এপ্রিল। ঘোষিত ফলে ডিপজলের চেয়ে ১৭ ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন নিপুণ। তবে ফল ঘোষণার পর বিজয়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানান গেল মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা নিপুণ। কিন্তু হঠাৎ ১৪ মে তিনি নির্বাচনের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
নিপুণ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। বুধবার রিট আবেদনের বিষয়ে দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “আরও আগেই রিট করা উচিৎ ছিল। ভোট হয়েছে শুক্রবার, ফলাফল ঘোষণা হয়েছে শনিবার। রবিবারই আমার রিটটি করা দরকার ছিল। কিন্তু আমি অসুস্থ ছিলাম এবং জরুরি কাজে যুক্তরাষ্ট্র চলে আসায় সেটি সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সবকিছুই প্রসেস করে রেখে এসেছিলাম। মঙ্গলবার আমার আইনজীবীর মাধ্যমে রিটটি করেছি।”
নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন আপিল বোর্ডের যোগসূত্রে নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ও আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের কথাবার্তা আমার কাছে রহস্যজনক মনে হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান খসরু ভাই আমাকে বারবার বলছিলেন, ‘এখানে বসে থেকে আর লাভ নাই। বাসায় চলে যান। মিশা-ডিপজল পুরো প্যানেল জয়লাভ করবে’।”
নিপুণ বলেন, “তখনো পোর্টফোলিও ভোটের বাক্সই খোলেনি, কীভাবে চেয়ারম্যান এসব বলতে পারেন?”
নিপুণ আরও বলেন, “ভোটের দিন সন্ধ্যায় ভোটগ্রহণ শেষে আমি বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবার এফডিসিতে আসি। তখন রাত আনুমানিক ১০টা বাজে। এফডিসিতে ফেরার পর পরিবেশ ঘোলাটে দেখতে পাই। যতই রাত বাড়ছিল, ততই ভোটকেন্দ্র ও বাইরের পরিবেশ আমার কাছে হুমকিস্বরূপ মনে হচ্ছিল। তাই ভোটের ফলাফল পর্যন্ত, আমিসহ আমার প্যানেলের কয়েকজন এক নম্বর স্টুডিওর মেকাআপ রুমে তালা মেরে ভেতরে বসে ছিলাম।”
বিজয়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবাবে নিপুণ বলেন, “ওই সময় সেটি করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। তাছাড়া মিশা-ডিপজল প্যানেলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন, আপিল বোর্ডের যোগসাজশে ভেতরে-ভেতরে এত বড় অনিয়ম চলে আসছিল, সেটি ফলাফল প্রকাশের অনেক সময় পর স্পষ্ট হয়েছে।”



জায়েদ খান: নিপুণের কারণে শিল্পীদের বদনাম হচ্ছে
মিশা-ডিপজলের কমিটির দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নিপুণের রিট