না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন গীতিকার, সুরকার, কবি ও সংগীতশিল্পী আবু জাফর।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে মৃত্যু বরণ করেন তিনি।
আবু জাফর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের গড়ের বাড়ি কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম খোন্দকার মো. জমির উদ্দিন।
আবু জাফর একাধারে গীতিকার, সুরকার, কবি ও সংগীতশিল্পী। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ও চুয়াডাঙ্গা কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন তিনি। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এই সুরকার।
আবু জাফর রাজশাহী ও ঢাকা বেতার এবং টেলিভিশনের নিয়মিত সংগীতশিল্পী ও গীতিকার ছিলেন। তার রচিত দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান তুমুল আলোড়ন তুলেছিল। একাধিক কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি। এর মধ্যে ‘‘এই পদ্মা এই মেঘনা’’ উল্লেখযোগ্য।
বেশ কিছু বই লিখেছেন আবু জাফর। এর মধ্যে নতুন ‘‘রাত্রি পুরোনো দিন’’ (কাব্য), ‘‘বাজারে দুর্নাম তবু তুমিই সর্বস্ব’’ (কাব্য), ‘‘বিপ্লবোত্তর সোভিয়েত কবিতা’’ (অনুবাদ কাব্য) উল্লেখযোগ্য।
আবু জাফরের বিখ্যাত গানের মধ্যে ‘‘এই পদ্মা এই মেঘনা’’ গানটি বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি গানের মধ্যে স্থান পেয়েছিল। তার রচিত অনন্য সঙ্গীতের মধ্যে রয়েছে ‘‘তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম’’, ‘‘নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গায়ে’’, ‘‘আমি হেলেন কিংবা মমতাজকে দেখিনি’’, ‘‘তুমি রাত আমি রাতজাগা পাখি’’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
তার নিজের রচিত বেশির ভাগ গানে তিনি নিজেই কণ্ঠ দিয়েছেন। ক্ষেত্রবিশেষে তার সঙ্গে যুগলে কণ্ঠ দিয়েছেন তার প্রাক্তন স্ত্রী ফরিদা পারভীন।
স্থানীয় কুমারখালি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ মাহমুদ শিক্ষক আবু জাফরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আবু জাফর স্যারের নামাজের জানাজা শুক্রবার আসরের পর কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পৌর গোরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। গুণী এ মানুষটির প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীতভুবন।



