Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বেরোবিতে চালু হচ্ছে নাম-রোলহীন খাতা মূল্যায়ন

সকল বির্তকের অবসান ঘটাতে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ০১ মে ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

শেষ পর্যন্ত সকল বির্তকের অবসান ঘটিয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) চালু হচ্ছে নাম-রোলহীন খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি।

বৃহস্পতিবার (১ মে) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. ইলিয়াছ প্রামানিক।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে নম্বর বেশি বা কম দেওয়া সূত্রে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির দেওয়া সুপারিশ অনুযায়ী বিশেষ করে অনার্স ও মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় রোল ও নামহীন খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ পদ্ধতি চালু হওয়ার পর কোনো পরীক্ষক বুঝতে পারবেন না কোন খাতা কোন শিক্ষার্থীর। এতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়, পরীক্ষায় নম্বর কম বা বেশি দেওয়ার; তা আর থাকবে না।

এ ব্যাপারে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. ইলিয়াছ প্রামানিক জানান,  নাম-রোলহীন খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হলে আর কোনো বিতর্কের সুযোগ থাকবে না।

এদিকে, নাম-রোলহীন খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি বিভাগে কিছু শিক্ষক আছেন যারা তাদের পছন্দের শিক্ষার্থীকে নম্বর বেশি দিয়ে থাকেন। আবার কোনো বিষয়ে শিক্ষকের সঙ্গে মতের অমিল হলে তিনি রোল নম্বর মার্ক করে পরীক্ষায় নম্বর কম দিয়ে থাকেন। তখন ভালো লিখেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ থাকলেও কিছু করার ছিল না। আমরা আশা করছি, এবার ও নাম-রোলহীন খাতা মূল্যায়ন চালু হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং যা প্রাপ্য সে নম্বার দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থী আফসানা আশরাফ, সাব্বির আহম্মেদসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিশেষ করে ২-৩টি বিভাগে পরীক্ষায় নম্বর দেওয়ার নামে রাজনীতি করা হচ্ছে। শিক্ষাথীদের নিজের বলয়ে রাখা, তাদের দিয়ে প্রতিপক্ষ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করানো, নিজের ক্ষমতা জাহির করা; এমনকি বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক এক শিক্ষার্থী এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অবস্থান নেওয়া আর তার কথামতো কাজ না করায় তাকে নানানভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। ইচ্ছে করে নম্বর কম দেওয়া হয়েছে। এমনকি মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে তাকে হয়রানিও করা হয়েছে।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২-৩টি বিভাগে প্রভাবশালী ২-৩ জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে তাদের দিয়ে তারা স্বার্থ হাসিল করছেন। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সুবিধা নিচ্ছেন। আবার তাদের সুবিধা না দিলে তাদের বলয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে আন্দোলন করারও হুমকিও দেন। এটা নোংরা রাজনীতি। তবে এবার এটা দূর করা যাবে।

প্রসঙ্গত, অতি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দুই শিক্ষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফলাফল টেম্পারিংয়ের এবং দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির কথা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্যাম্পাসে তাদের কুশপুত্তলিকা বানিয়ে জুতা পেটা করা হয়। দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে মশাল মিছিলও করা হয়।

গত ২৪ এপ্রিল নাম-পরিচয় গোপন রাখা শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আরেকটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. ইলিয়াছ প্রামানিককে সদস্য সচিব করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। 

পরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার ড. মো. হারুন অর রশিদ জানিয়েছিলেন, তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি টক অব দ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। অবশেষে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় রোল ও নামহীন খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

   

About

Popular Links

x