Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

একেবারেই কথা শুনছে না, মাত্রাতিরিক্ত দুষ্টুমি, এডিএইচডি নেই তো আপনার শিশুর?

আমাদের দেশে অনেকেই অটিসম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার এবং এডিএইচডিকে এক মনে করেন

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

শিশু মানেই চঞ্চলতা, দুষ্টুমি, ছুটোছুটি। ঘরজুড়ে দৌড়ঝাঁপ, অকারণে হাসাহাসি, কখনো আবার একগুঁয়েমি, এসবই বেড়ে ওঠার স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু যখন এই চঞ্চলতা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, শিশুর পড়াশোনা, আচরণ, এমনকি পারিবারিক জীবনও ব্যাহত হতে শুরু করে, তখন বিষয়টি আর শুধু “দুষ্টুমি” থাকে না। হতে পারে এটি এটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার  বা এডিএইচডি।

দুষ্টুমি নাকি সমস্যার সংকেত?

অনেক অভিভাবকই অভিযোগ করেন, “আমার বাচ্চা একদম কথা শোনে না”, “এক মিনিটও স্থির থাকতে পারে না”, “পড়তে বসলে পাঁচ মিনিটেই উঠে যায়”। এসব আচরণ যদি মাঝে মাঝে হয়, তাহলে তা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি প্রতিদিনের চিত্রই এমন হয় এবং সব জায়গায় বাসা, স্কুল, খেলাধুলা, একই সমস্যা দেখা যায়, তাহলে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিএইচডি এমন একটি অবস্থা যেখানে শিশুর মনোযোগ ধরে রাখা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং স্থির থাকা—এই তিনটি বিষয়েই সমস্যা দেখা যায়।
কোন লক্ষণগুলো চোখে পড়বে?

এডিএইচডি আক্রান্ত শিশুর আচরণ কিছুটা আলাদা ধরনের হয়—

এক জায়গায় বসে থাকতে না পারা, অস্থিরতা, শিক্ষক বা অভিভাবকের কথা মনোযোগ দিয়ে না শোনা, কাজ শেষ না করে মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া, অতিরিক্ত কথা বলা বা অন্যের কথা কেটে কথা বলা, বই, খাতা, খেলনা ইত্যাদি বারবার হারিয়ে ফেলা, ছোট কারণে রেগে যাওয়া বা আক্রমণাত্মক আচরণ

এই লক্ষণগুলো যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে এবং শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে, তখন সেটি এডিএইচডির শক্ত ইঙ্গিত হতে পারে।

কেন হয় এডিএইচডি?

এডিএইচডির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। জিনগত কারণ এখানে বড় ভূমিকা রাখে, পরিবারে কারও এই সমস্যা থাকলে শিশুর ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যের পরিবর্তন, জন্মের সময় বা পরে মস্তিষ্কে কোনো সমস্যা, এমনকি পরিবেশগত কারণও দায়ী হতে পারে।

বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও কৃত্রিম রঙযুক্ত খাবারের প্রভাবও শিশুদের আচরণে নেতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

অটিজম নাকি এডিএইচডি, বিভ্রান্তি দূর করুন

আমাদের দেশে অনেকেই অটিসম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার এবং এডিএইচডিকে এক মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। অটিজমে সাধারণত শিশুর যোগাযোগ ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় সমস্যা থাকে, অনেক সময় কথা বলতেও দেরি হয়। অন্যদিকে এডিএইচডি শিশুদের কথা বলার সমস্যা থাকে না, বরং তারা অনেক বেশি কথা বলে—সমস্যাটা মূলত মনোযোগ ও আচরণে।

কোন বয়সে বেশি দেখা যায়?

সাধারণত ৩ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে এডিএইচডির লক্ষণ প্রকাশ পায়। বিশেষ করে ৪ থেকে ৫ বছর বয়সে এটি বেশি চোখে পড়ে। এই সময়টিতে দ্রুত শনাক্ত করা গেলে শিশুর উন্নতির সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

চিকিৎসা কি সম্ভব?

সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে এডিএইচডি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে বেশিরভাগ শিশুই পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।

অভিভাবকের করণীয় কী?

শিশুর আচরণ ঠিক রাখতে পরিবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু সহজ পদক্ষেপ অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
নির্দিষ্ট দৈনন্দিন রুটিন তৈরি করা, বড় নির্দেশনার বদলে ছোট ছোট নির্দেশ দেওয়া, আঁকা, গান, খেলাধুলার মতো সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা, ভালো আচরণের জন্য প্রশংসা করা, স্ক্রিন টাইম কমানো, শিশুকে বকাঝকা বা শাস্তি দিয়ে নয়, বরং বোঝার মাধ্যমে এগোতে হবে।

শিক্ষকদের ভূমিকা

স্কুলেও এডিএইচডি শিশুর জন্য আলাদা যত্ন প্রয়োজন। যেমন, সামনে বসার ব্যবস্থা করা, ছোট ছোট টাস্ক দেওয়া, নিয়মিত নজর রাখা, ইতিবাচক উৎসাহ দেওয়া

শিশুর অতিরিক্ত দুষ্টুমি অনেক সময় বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। “সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে”—এই ভেবে বসে থাকলে ক্ষতি হতে পারে। বরং সময়মতো সচেতন হওয়া, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং শিশুকে সঠিকভাবে গাইড করাই হতে পারে তার সুন্দর ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।

   

About

Popular Links

x