তীব্র গরমে এসি, ফ্যানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজ। এসি ছাড়া দু’দিন চলা গেলেও, ফ্রিজ ছাড়া এক দিনও চলা কঠিন। শুধু ঠান্ডা পানি নয়। খাবার, কাঁচা সবজি, মাছ-মাংস এমন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সতেজ রাখতে একমাত্র ভরসা এই ফ্রিজ। কিন্তু ফ্রিজ ব্যবহারে রয়েছে কিছু সতর্কতা। বিশেষ করে পুরনো ফ্রিজের ক্ষেত্রে। সামান্য ভুলে যেকোনো সময় এটি বোমার মতো বিস্ফোরিত হতে পারে। কিন্তু কেন এমন ঘটে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল কারণ লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের ভুল রক্ষণাবেক্ষণে।
ফ্রিজের হৃৎপিণ্ড হলো এর কম্প্রেসর। এটি ফ্রিজের পেছনের দিকে থাকে। অনেক সময় জায়গার অভাবে আমরা ফ্রিজ একদম দেয়ালের সঙ্গে ঠেকিয়ে রাখি। আর এটিই হলো সবচেয়ে বড় ভুল। দেয়াল এবং ফ্রিজের মধ্যে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা না থাকলে কম্প্রেসর থেকে বের হওয়া গরম বাতাস বের হতে পারে না। ফলে ফ্রিজ অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে যেকোনো সময়।
রান্না করা খাবার গরম অবস্থাতেই ফ্রিজে ঢোকানোর অভ্যাস অনেকের আছে। এই কাজ চরম বিপদ ডেকে আনতে পারে। গরম খাবারের বাষ্প ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রার ভারসাম্য দ্রুত নষ্ট করে দেয়। ফলে ভেতরের ঠান্ডা বজায় রাখতে কম্প্রেসরকে দ্বিগুণ শক্তি দিয়ে কাজ করতে হয়। এই অতিরিক্ত চাপের ফলেই ফ্রিজ বিকল হয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অনেকেই ফ্রিজ অন্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের একেবারে গা ঘেঁষে রাখেন। এটিও বিপজ্জনক। এ ছাড়া ফ্রিজের তাপমাত্রা সব সময় একদম সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে রাখা উচিত নয়। এতে যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষ করে ১০ বছরের বেশি পুরনো ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাবধানতা প্রয়োজন। পুরনো মডেলের যন্ত্রাংশ দ্রুত গরম হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে।
নিরাপদ থাকতে ফ্রিজের পেছনের অংশ সব সময় পরিষ্কার রাখুন। ফ্রিজের চারপাশে বাতাস চলাচলের জায়গা রাখুন। সামান্য সচেতনতাই রুখে দিতে পারে বড় কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা।



