Monday, July 06, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যে কারণে বেড়েই চলেছে পরকীয়া

ব্যভিচারকারী পুরুষের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ডের বিধান থাকলেও নারীর ক্ষেত্রে কোনো শাস্তির বিধান নেই

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

সন্তান, লাইফ পার্টনার, সুখের সংসার থাকা সত্ত্বেও মানুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে প্রায়ই। সংসার জীবনের একটা বিষফোঁড়া যেন পরকীয়া। কিন্তু কীসের জন্য সাজানো সংসার ফেলে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে মানুষ? আর দিনদিন বিশ্বজুড়ে কেনইবা বাড়ছে পরকীয়ার প্রবণতা? 

বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর ২০২২ সালের এক জরিপ তুলে ধরে বলছে, বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদের প্রধান কারণ হিসেবে ২৩% মানুষ পরকীয়াকে দায়ী করেন।  

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত আইন এদেশে খুব বেশি নেই। তবে ৪৯৭ ধারায় বলা হয়েছে যে কোনো বিবাহিত ব্যক্তি যদি অন্য কোনো বিবাহিত নারীর সাথে জেনেশুনে যৌন সম্পর্ক করে তাহলে তা ব্যভিচার বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সেই পুরুষটির পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে। 

তবে যে নারী ব্যভিচারে লিপ্ত তার ক্ষেত্রে আইনে কোনো শাস্তির বিধান নেই আমাদের।

মনস্তত্ববিদদের মতে, মানুষ বিশেষত পুরুষদের বহু সম্পর্কের মাধ্যমে জিন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা থাকে। আবার নারীদের ক্ষেত্রে পরকীয়া অনেক সময় আসে নিরাপত্তা বা মানসিক সহায়তার খোঁজ থেকে।

অনেক সময়ই ইচ্ছা-অনিচ্ছা কিংবা মনের মিল না হওয়ায় মানুষ এমন কাউকে খোঁজে যার সঙ্গে তার ইচ্ছাগুলো মিলবে। দাম্পত্যে অশান্তি কিংবা পারিবারিক কলহের জেরে অনেক নারী-পুরুষই বিবাহ বিহর্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হন। 

পরকীয়ার পেছনে রয়েছে, ডোপামিন  নামক হরমোনের ভূমিকাও। এই হরমোন নতুন সম্পর্ক, উত্তেজনা ও “নিষিদ্ধ” কাজের সঙ্গে যুক্ত আনন্দ দেয়। অক্সিটোসিন ও ভাসোপ্রেসিন দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়তে সহায়ক হলেও, কারও কারও ক্ষেত্রে এগুলোর ভারসাম্যহীনতা সম্পর্কে অস্থিরতা আনতে পারে।

এর মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাও আছে, শৈশবে মা–বাবার সঙ্গে সম্পর্ক যেভাবে গড়ে ওঠে, বড় হয়ে সেই অনুযায়ী মানুষ স্থায়ী সম্পর্কে নিরাপত্তা বা অস্থিরতা বোধ করে। থাকা ব্যক্তিদের পরকীয়ার ঝুঁকি বেশি।

এছাড়া নতুনত্বের আকর্ষণও পরকীয়ার একটি কারণ। মস্তিষ্ক নতুন অভিজ্ঞতা খোঁজে। একই সম্পর্কের একঘেয়েমি কাটাতে অন্য সম্পর্ক পুরস্কার হিসেবেও কাজ করে। বিশেষ করে যাদের ইম্পালস কন্ট্রোল বা আত্মনিয়ন্ত্রণ কম, তারা মুহূর্তের উত্তেজনায় ভুল সিদ্ধান্ত নেয়।

নিউরোসায়েন্সের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, পরকীয়ায় জড়ানো মানুষের মস্তিষ্কে রিওয়ার্ড সিস্টেম বেশি সক্রিয় হয়। এটা অনেকটা নেশার মতো কাজ করে, ফলে অনেকের জন্যই এ সম্পর্ক থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। 

তাই  বলা যায়, পরকীয়া হলো একটি জৈবিক প্রবৃত্তি, কেবল নৈতিক ব্যর্থতাই নয়, বরং মানুষের হরমোন, মানসিক গঠন, ব্যক্তিত্ব আর পরিবেশ সবকিছু মিলেই এই প্রবণতা তৈরি হয়।

কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকা, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজলভ্য হয়ে ওঠা, ইদানীং পরকীয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া সঙ্গীর সঙ্গে মনের মিল না থাকলে বা চাপের বিয়ে হলে অন্য সম্পর্কে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা থাকে। 

সময়ের সাথে সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে অনেক সময় মানসিক দূরত্ব তৈরি হয় এগুলোও পরকীয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তেমনি, পদ, সুবিধা বা লোভের কারণে গোপন সম্পর্ক তৈরি, এছাড়া অল্প বয়সে বিয়ে করলেও অনেককে পরকীয়ার দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখা যায়।

 

   

About

Popular Links

x