Thursday, September 10, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার আগে যেসব পরীক্ষা সম্পর্কে জানা জরুরি

ভালো একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষাগত পরীক্ষায় ভালো ফল করাও গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান হাজারো শিক্ষার্থী। ফলে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বাড়ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও জাপানের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ রয়েছে।

কোন দেশে বা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন, তা ঠিক করার ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান, পছন্দের বিষয় এবং বৃত্তির সুযোগকে গুরুত্ব দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর সেই অনুযায়ী শুরু করেন প্রস্তুতি।

ইউনেস্কোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫২,৭৯৯ শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গেছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভালো একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষাগত ও ভর্তি-সহায়ক পরীক্ষায় ভালো ফল করাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব পরীক্ষায় ভালো স্কোর থাকলে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি গবেষক ড. নাদিম মাহমুদ।

কোন কোন পরীক্ষা সম্পর্কে জানা দরকার

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়। ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সের জন্য আইইএলটিএস ও টোয়েফল সবচেয়ে পরিচিত পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পরীক্ষার ধরন ভিন্ন হতে পারে।

এছাড়াও এসএটি, জিআরই, জি-ম্যাট- এর মতো ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষায় সফল হতে হয়।

জার্মানি, জাপান কিংবা চীনের মতো দেশে স্থানীয় ভাষায় পরিচালিত কোর্সে ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ভাষার দক্ষতা অর্জনের পরীক্ষাও দিতে হয়।  

জার্মান ভাষায় পরিচালিত কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে টেস্টড্যাফ বা ডিএসএইচ পরীক্ষার মাধ্যমে ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়। আবার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের বিভিন্ন মাস্টার্স প্রোগ্রামে অনেক সময় জিআরই স্কোর প্রয়োজন হয়। কিছু বিজনেস স্কুলে এমবিএ ও ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট কোর্সে আবেদনের জন্য জি-ম্যাট স্কোরও চাওয়া হয়।

আইইএলটিএস ও টোয়েফল

বিশ্বের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে একাডেমিক আইইএলটিএস (ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম) ও টোয়েফল (টেস্ট অব ইংলিশ অ্যাজ এ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ) গ্রহণ করে।

ড. নাদিম মাহমুদের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে আইইএলটিএসের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে এ পরীক্ষা দেওয়া যায়। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ে আইইএলটিএস স্কোর বিবেচনা করা হয়।

উত্তর আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক ক্ষেত্রে টোয়েফল স্কোরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে টোয়েফল স্কোর চাওয়া হয়। তবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএস ও টোয়েফল - দুই ধরনের স্কোরই গ্রহণ করে।

দুই পরীক্ষাতেই রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং ও স্পিকিং - এই চারটি অংশে দক্ষতা যাচাই করা হয়। একই দিনেই পরীক্ষাগুলো দেওয়া যায়।

আইইএলটিএসের দুটি ধরন রয়েছে - একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং। স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডিতে ভর্তির জন্য একাডেমিক মডিউলের পরীক্ষা দিতে হয়। আইইএলটিএসের স্কোর ১ থেকে ৯-এর মধ্যে দেওয়া হয়। চারটি অংশে পাওয়া স্কোরের গড় হিসাব করে চূড়ান্ত স্কোর নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে টোয়েফলের সর্বোচ্চ স্কোর ১২০। এই পরীক্ষার তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা হলো এডুকেশন টেস্টিং সার্ভিস বা ইটিএস।

জিআরই ও জি-ম্যাট কেন দিতে হয়

জিম্যাটের পূর্ণরূপ গ্রাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট। ৮০০ নম্বরের এই পরীক্ষার স্কোর যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস অ্যান্ড কমার্স বিষয়ে মাস্টার্সে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশেও এমবিএ পড়ার জন্য জিম্যাট স্কোর চাওয়া হয়। কম্পিউটারভিত্তিক এই পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণ ও গাণিতিক দক্ষতার পাশাপাশি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং যুক্তি দিয়ে চিন্তা করার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

জিম্যাটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে নির্ধারিত দিনে অনুমোদিত কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হয়। একবার পরীক্ষায় পাওয়া জিম্যাট স্কোর দিয়ে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যায়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বা পিএইচডি পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জিআরই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই পরীক্ষার স্কোরের মেয়াদও পাঁচ বছর।

এডুকেশন টেস্টিং সার্ভিস (ইটিএস) জিআরই পরীক্ষার তত্ত্বাবধান করে। পরীক্ষাটির তিনটি প্রধান অংশ হলো অ্যানালিটিকাল রাইটিং, ভারবাল রিজনিং ও কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং।

ভারবাল রিজনিংয়ের জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ের জন্য গণিত এবং অ্যানালিটিকাল রাইটিংয়ের জন্য বিশ্লেষণী দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।

স্যাট বা এসএটি কখন প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে এসএটি (স্কলাশটিক অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট) স্কোর চাওয়া হয়। বাংলাদেশে এটি স্যাট নামেই পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের সঙ্গে স্যাট স্কোর জমা দিতে হয়।

ড. নাদিম মাহমুদের ভাষ্য, এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করার পর একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য কতটা প্রস্তুত, তা যাচাইয়ে এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের ঢাকা ও চট্টগ্রামে স্যাট পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নিতে স্যাটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হয়। ১৬০০ নম্বরের স্যাট পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাথমেটিকস, ক্রিটিক্যাল রিডিং ও রাইটিং।

টেস্টড্যাফ ও ডিএসএইচ কী

উচ্চশিক্ষার জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জার্মানিতে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। জার্মানিতে ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সে ভর্তির জন্য আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে জার্মান ভাষার কোর্সে ভর্তি হতে টেস্টড্যাফ বা ডিএসএইচ পরীক্ষার মাধ্যমে ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়।

বাংলাদেশ থেকে অনুমোদিত কেন্দ্রে টেস্টড্যাফ পরীক্ষা দেওয়া যায়। অন্যদিকে ডিএসএইচ পরীক্ষা জার্মানিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে দিতে হয়।

জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি প্রক্রিয়ায় নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করে। বিজ্ঞান বা গণিতের মতো বিষয়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় জিআরই স্কোর চায়। আবার ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট কোর্সে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় জিম্যাট স্কোর চাইতে পারে।

জাপানে কী পরীক্ষা লাগে

জাপানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর চাওয়া হয়। তবে স্নাতক পর্যায়ের কিছু কোর্সে জাপানি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপান ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিশিয়েন্সি টেস্ট বা জেএলপিটি দিতে হয়।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রতিবছর দুইবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অনলাইনে নিবন্ধন করে বাংলাদেশ থেকেও জেএলপিটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায়।

   

About

Popular Links

x