Sunday, September 27, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিদেশে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখলেই আবেদন? আগে যা যাচাই করবেন

পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজার সময় ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও ভিসা স্পনসরশিপের নামে প্রতারণার ঝুঁকি থাকে

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

বিদেশে পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে চাকরির সুযোগের পাশাপাশি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রতারক নিয়োগদাতা এবং ভিসা স্পনসরশিপের নামে প্রতারণার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় কোনো চাকরির বিজ্ঞাপন কিংবা পেশাদার পরিচয়ে কারও বার্তা পেলেই তা বিশ্বাস না করে আগে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চাকরির বিজ্ঞাপন যাচাই করুন

লিংকডইন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ চাকরি খোঁজার কার্যকর মাধ্যম। তবে এসব প্ল্যাটফর্মে কোনো বিজ্ঞাপন থাকলেই সেটিকে বৈধ চাকরির প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

কোনো চাকরির বিজ্ঞাপন চোখে পড়লে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ক্যারিয়ার পেজে একই পদে নিয়োগ চলছে কি না, তা মিলিয়ে দেখা উচিত। পাশাপাশি পদের দায়িত্ব, যোগ্যতা ও আবেদনের প্রক্রিয়াও বিজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, যাচাই করতে হবে।

চাকরি পেতে টাকা চাইলে সতর্ক

চাকরি বা ভিসা স্পনসরশিপের বিনিময়ে অর্থ চাওয়া প্রতারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। সাধারণ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগদাতাকে অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানই নিয়োগপ্রক্রিয়ার দায়িত্ব নেয়।

কোনো ফি চাওয়া হলে কেন তা নেওয়া হচ্ছে, কাকে দেওয়া হচ্ছে এবং সেটি সত্যিই প্রয়োজনীয় কি না, তা যাচাই করা দরকার। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার সার্ভিস বা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা দলের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

 ‘নিশ্চিত’ স্পনসরশিপের দাবিতে সতর্ক

‘১০০ শতাংশ নিশ্চিত ভিসা’, ‘গ্যারান্টিড স্পনসরশিপ’ বা ‘নিশ্চিত ওয়ার্ক ভিসা’ - এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দেখলেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ভিসা স্পনসরশিপের বিষয়টি নির্ভর করে নিয়োগদাতা, চাকরির ধরন, প্রার্থীর যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন নীতির ওপর।

তাই অর্থের বিনিময়ে নিশ্চিত স্পনসরশিপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে সেটি প্রথমে যাচাই করে নিতে হবে।

নিয়োগপ্রক্রিয়া ও ব্যক্তিগত তথ্য

প্রকৃত নিয়োগদাতাদের সাধারণত আবেদন, সাক্ষাৎকার, মূল্যায়ন বা এইচআরের সঙ্গে আলোচনার মতো ধাপ থাকে। কোনো ব্যক্তি বিস্তারিত আলোচনা বা মূল্যায়ন ছাড়াই এক - দুই দিনের মধ্যে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সতর্ক হওয়া উচিত।

এছাড়া নিয়োগদাতার পরিচয় ও প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই না করে পাসপোর্টের কপি, ব্যাংক হিসাবের তথ্য বা অভিবাসনসংক্রান্ত নথি দেওয়া উচিত নয়।

বিশেষ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়া, আগাম টাকা চাওয়া, নিশ্চিত স্পনসরশিপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া কিংবা শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে চাকরির প্রস্তাব এলে অতিরিক্ত যাচাই করা জরুরি।

নিয়োগদাতার পরিচয় যাচাই করুন

কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠিত কোনো কোম্পানির হয়ে যোগাযোগ করলে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার প্রকৃত সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। জিমেইল বা আউটলুকের মতো ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করলেই সেটি প্রতারণার প্রমাণ হয় না। তবে কোম্পানির ওয়েবসাইট, অফিসিয়াল ই-মেইল ডোমেইন, লিংকডইন উপস্থিতি এবং যোগাযোগের তথ্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।

   

About

Popular Links

x