Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জেনে নিন যেভাবে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয় কোভিডের নমুনা

কোভিডের সংক্রমণ নিশ্চিত হতে পরীক্ষার বিকল্প নেই। কীভাবে ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, জানা যাক বিস্তারিত

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৩:১৭ পিএম

কারও শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হতে গবেষণাগারে বর্তমানে দুটি পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়। সেগুলো হলো- আরটি-পিসিআর ও কোভিড-১৯ র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা।

করোনাভাইরাস একটি আরএনএ (RNA) ভাইরাস। তাই এর আরএনএ শনাক্ত করা গেলেই শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি প্রমাণ করা যায়। আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে এই মূলনীতি অনুযায়ী পরীক্ষাটি করা হয়।

কোভিড-১৯ ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্রে অত্যন্ত বেশি সংখ্যায় পাওয়া যায়। তাই নাসাগলবিল এবং মুখের ভেতর থেকে নমুনা বা স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়।

এই নমুনা গবেষণাগারে পৌঁছানোর পর, একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নমুনাগুলো ভর্টেক্স মেশিনের সাহায্যে সুষম মিশ্রণে পরিণত করেন।

নমুনা থেকে আরএনএ বা রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড আলাদা করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। এখানে আমরা অধঃক্ষেপ পদ্ধতি (রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এক্সট্রাকশন কিট) নিয়ে আলোচনা করব।

এই কিটের মধ্যে কয়েক ধরনের রিঅ্যাজেন্ট দেওয়া থাকে। যেমন-

- সল্যুশন ফর লাইসিশ
- সল্যুশন ফর প্রেশিপিটেশন
- ওয়াশ সল্যুশন ৩
- ওয়াশ সল্যুশন ৪

শুরুতে বায়োসেফটি চেম্বারে একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাজ শুরু করেন। আণবিক পর্যায়ের কাজে নমুনার বিশুদ্ধতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিজেকে নিরাপদ রাখতে পরীক্ষকরা পিপিই থেকে শুরু করে ফেস শিল্ড ও গ্লাভস ইত্যাদি নির্দিষ্ট পোশাক ব্যবহার করে থাকেন।

ধাপ ১
করোনাভাইরাসের কোষ ভাঙতে লাইসিস সল্যুশন এবং ইন্টারনাল কন্ট্রোল নির্দিষ্ট পরিমাণে একটি ক্ষুদ্র টিউবে (এমসিটি) নেওয়া হয়। এরপর সেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ নমুনা দেওয়া হয়। প্রতিটি ধাপে নিখুঁত পরিমাপের জন্য উন্নতমানের “পিপেট” ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ধাপ ২
এবার এই মিশ্রণকে আবারও ভরটেক্স মেশিনের সাহায্যে সুষম মিশ্রণ এবং রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়। এবং পাঁচ মিনিটের জন্য ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়।

ধাপ ৩
এরপর কোষ ভেঙে ভেতরের আন্তঃকোষীয় অঙ্গাণু বেরিয়ে পড়ে এবং টিউবের ভেতরে ভাসমান অবস্থায় রয়ে যায়। এবার প্রেশিপিটেশন সল্যুশনটি নির্দিষ্ট পরিমাণে ওই টিউবে অধঃক্ষেপ তৈরির জন্য দেওয়া হয়।

ধাপ ৪
আবারও ভরটেক্স মেশিনের মাধম্যে সুষম মিশ্রণ এবং রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে সেই টিউবগুলোকে সেন্ট্রিফিউজ মেশিনের মধ্যে মিনিটে ১৩,০০০ বার করে পাঁচ মিনিট ঘোরানো হয়।

ধাপ ৫
এবার প্রতিটি টিউবের নিচে অধঃক্ষেপ দেখা যাবে। এবারের ওপরের তরল ফেলে দিয়ে অধঃক্ষেপের সঙ্গে ওয়াশ সল্যুশন ৩ এবং ৪ পর্যায়ক্রমে মিশ্রিত করে এবং দুই মিনিট করে সেন্ট্রিফিউজ করে কাঙ্ক্ষিত রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড বা আরএনএ আলাদা করা হয়। এটিকে ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পাঁচ মিনিট শুকিয়ে আরএনএ বাফারের সঙ্গে মিশিয়ে আবারও পাঁচ মিনিট একই তাপমাত্রায় তাপ দেওয়া হয়।

এবার পাওয়া যায় কাঙ্ক্ষিত আরএনএ। এবার এই আরএনএ বিশেষ আরটি-পিসিআর মেশিনের সাহায্যে শনাক্ত করতে হয়। শনাক্তকরণের জন্য বিভিন্ন বাণিজ্যিক “কিট” পাওয়া যায়।

প্রতিটি টিউবে বিভিন্ন রাসায়নিকের একটি মিশ্রণ নির্দিষ্ট পরিমাণে মিশিয়ে পিসিআর টিউবে দেওয়া হয় এবং প্রায় ১ থেকে ৩ ঘণ্টা পর কম্পিউটারের পর্দায় লেখচিত্রের মতো ফলাফল পাওয়া যায়। সেটা যাচাই-বাছাই করে ফলাফল জানানো হয়।

এভাবেই ল্যাবে আরটি-পিসিআর টেস্ট করা হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির বিএইএইচএস কোভিড ল্যাবের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মুহম্মদ সাইদ উল্লাহ বলেন, “সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল। প্রত্যেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রতিটি ধাপে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কাজ করেন, যাতে করে সঠিক ফলাফলটি আমরা পেয়ে থাকি। কোনো ধাপ ভুল করার কোনো সুযোগ নেই।”

পরবর্তীতে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হবে।


ডা. মুহম্মদ মুহিদুল ইসলাম
সায়েন্টিফিক অফিসার
বিআইএইচএস হসপিটাল কোভিড-১৯ ল্যাব, ঢাকা



About

Popular Links