Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট কতটা ভয়ানক

‘এটি আতঙ্কের সময় নয়, বরং প্রস্তুতির সময়’

আপডেট : ১০ জুন ২০২৫, ০২:৪৯ পিএম

ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এসব দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের নতুন সাব ভেরিয়েন্ট এলএফ.৭, এক্সএফজি, জেএন-১ ও এনবি ১.৮.১ এর সংক্রমণ বিভিন্ন দেশে বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

তবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় করোনাভাইরাসের অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সাব-ভ্যারিয়েন্ট এক্সবিবি নিয়ে চলছে সবচেয়ে বেশি আলোচনা।

অমিক্রন এক্সবিবি মূলত দুটি অমিক্রন সাব-ভ্যারিয়েন্টের সংমিশ্রণে তৈরি— BA.2.10.1 এবং BA.2.75। এক্সবিবি প্রথম শনাক্ত হয় ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে। এরপর তা বিশ্বজুড়ে ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে।

এক্সবিবি’র বৈশিষ্ট্য

  • এটি উচ্চমাত্রায় সংক্রামক
  • এর ইমিউন এস্কেপ ক্ষমতা রয়েছে, অর্থাৎ এটি প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন বা টিকা-প্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও কিছুটা ফাঁকি দিতে পারে
  • তবে, এখন পর্যন্ত এর প্রভাবে মারাত্মক অসুস্থতা বা মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে, হালনাগাদ বুস্টার ডোজ, বিশেষ করে এক্সবিবি-ভিত্তিক ভ্যাকসিন, এই ধরন থেকে গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে কার্যকর। যদিও সংক্রমণ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না, তবে টিকা গুরুতর জটিলতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এই এক্সবিবি থেকে আরও কয়েকটি উপধরন সৃষ্টি হয়েছে। যেমন— এক্সবিবি .১, এক্সবিবি .১.৫, এবং সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে এনবি .১.৮.১। এই ধরনগুলোর মধ্যে কিছু কিছু আগের চেয়ে আরও সংক্রামক, তবে টিকা এখনো কার্যকর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক্সবিবি ও এর উপধরনগুলোকে Variant of Interest বা Variant Under Monitoring হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর মানে হলো, এগুলোর ওপর বৈজ্ঞানিক নজরদারি চলছে এবং এগুলো ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

গ্লোবাল ভাইরাস নেটওয়ার্ক (জিভিএন) জানিয়েছে, এই ধরনটিতে সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি হলেও গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ানোর মতো কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সংস্থাটি সতর্ক থাকতে বলেছে এবং টিকা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে।

সাধারণ মানুষের করণীয়

  • টিকার সর্বশেষ ডোজটি নিয়েছেন কি-না, তা নিশ্চিত করুন
  • জনসমাগমপূর্ণ পরিবেশে মাস্ক পরিধান করুন
  • উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা করুন ও আইসোলেশনে থাকুন
  • স্থানীয় স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলুন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্সবিবি ও এর উপধরনগুলো অমিক্রনের একটি নতুন রূপ হলেও এখন পর্যন্ত এগুলো মারাত্মক আতঙ্কের কিছু নয়। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, টিকা গ্রহণ এবং সতর্কতা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

টিকা সংক্রান্ত পরামর্শ

জিভিএনের মতে, পুরোপুরি প্রতিকার যেহেতু নেই তাই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপই এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তাদের টিকা সংক্রান্ত সুপারিশগুলো হলো—

  • ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য হালনাগাদ বুস্টার ডোজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
  • ৬ মাস বয়স থেকে সব বয়সীদের টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করা উচিত।
  • শিশু ও কিশোরদের বছরে অন্তত একবার আপডেটেড টিকা দেওয়া জরুরি, কারণ আগের টিকার সুরক্ষা সময়ের সঙ্গে হ্রাস পায়।
  • গর্ভবতী নারীদের জন্য টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি শিশুদের জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে জন্মের আগেই শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে।
  • ফ্লু এবং কোভিড টিকা একসঙ্গে নেওয়া যেতে পারে এবং এর কোনো বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

গ্লোবাল ভাইরাস নেটওয়ার্কের (জিভিএন) মতে, নতুন ধরনের আবির্ভাব মানেই জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা নয়; বরং প্রস্তুত থাকার জন্য, এটি একটি সুযোগ। এক্সবিবি ও এর উপধরনগুলো নিয়ে আতঙ্ক নয়, বরং সতর্কতা, বৈজ্ঞানিক নজরদারি এবং টিকাদানের ওপর গুরুত্বের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জিভিএনের মতে, এটি আতঙ্কের সময় নয়, বরং প্রস্তুতির সময়।

   

About

Popular Links

x