Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রচণ্ড দাবদাহে যেমন আছে পথশিশুরা

প্রচণ্ড গরমে শিশুদের অসুখ-বিসুখ খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এই আবহাওয়ায় শিশুদের শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে ইলেক্ট্রোলাইট অসমতা এবং পানিশুন্যতার দেখা দেয়

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩, ১২:৪৮ পিএম

প্রচণ্ড দাবদাহে নাজেহাল সারাদেশ। দিন-রাত কখনোই শান্তি নেই। ঝুঁকি এড়াতে সরকার শিশুদের বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ছুটির ব্যবস্থা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কেমন আছে পথশিশুরা, তাদের অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করেছে ঢাকা ট্রিবিউন।

ইমন আর আলী নামে দুই ভাইকে পাওয়া গেল জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে। তারা সারাদিন পথেঘাটে ঘুরে বেড়ায় আর টাকার জন্য মানুষের কাছে হাত পাতে। ময়লা হাফপ্যান্ট আর গা ভর্তি ঘামাচি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো দুই ভাইয়ের ভাষ্য, “গরম খুব একটা গায়ে লাগে না।”

তীব্র কাঠফাটা রোদে কী করে জানতে চাইলে ইমন বলে, “দুই ভাই বাসে উঠে নিউমার্কেট চলে যাই। মার্কেটে ঢুকে এসির মধ্যে বসে থাকি। তখন একটু আরাম লাগে।”

হাত পেতে পাওয়া টাকা দু'ভাই মাকে দিয়ে দেয়। আবার নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার কম পেলে মা রাগ করেন বলেও জানায় তারা।

রায়েরবাজারের একটি বস্তিতে থাকা সহোদর শিশু ইয়ামিন আর ইয়াসিনের সঙ্গেও কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা পথেঘাটে কাগজ কুড়িয়ে বেড়ায়। শীত কিংবা গ্রীষ্ম, সকাল সকালই বের হতে হয় তাদের। ঘাড়, গলা আর কপাল ভর্তি ঘামাচি।

ইয়ামিন জানায়, “গরমে এগুলো হয়েছে। তবে গরম সয়ে গেছে। তবে প্রচুর পিপাসা পায়। সব জায়গায় পানি পাই না। রাস্তায় ফিল্টার পেলে পানি খাই।”

ফাইল ছবি/ঢাকা ট্রিবিউন

তার কথা, “গোসল করলে আরাম লাগে। এরপর কেউ দিলে দুপুরের খাবার খাব।”

লিয়া নামে আরেক শিশুকে পাওয়া যায় ধানমণ্ডি লেকে সেতুর নিচে। চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ। তার ভাষ্য, “এইখানে ব্রিজের ছায়ায় গরম কম লাগবে। আমি মায়ের সঙ্গে এই এলাকায় ভিক্ষা করি। পিপাসা পেলে রাস্তার ফিল্টার থেকে পানি খাই। ”

দারিদ্র্য আর জীবনসংগ্রাম এসব শিশুকে গরম নিয়ে ভাবার সুযোগ দেয়নি। কোনোমতে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ডা. লেলিন চৌধুরী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এই প্রচণ্ড গরমে শিশুদের অসুখ-বিসুখ খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এই আবহাওয়ায় শিশুদের শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে ইলেক্ট্রোলাইট অসমতা এবং পানিশুন্যতা দেখা দেয়। এ থেকে অনেক সময় হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনাও থাকে। এজন্য প্রচুর পানি পান করাতে হবে শিশুদের। আবার পানি অনিরাপদ হলে শিশুদের পেটের সমস্যা যেমন- ডায়রিয়া এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগও হতে পারে। গরমে নানা রকম ব্যাক্টেরিয়া আর ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে শিশুদের ডায়েরিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা,নিউমোনিয়া ইত্যাদি রোগ বেড়ে যায়।”

এই চিকিৎসক আরও বলেন, “যেসব শিশু পথেঘাটে থাকে তাদের ডায়রিয়া আর পানিশুন্যতা ছাড়াও টাইফয়েড, জন্ডিস জাতীয় রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ তারা যেকোনো জায়গার পানি পান করে। পাশাপাশি ধুলা থেকে ফুসফুসে সমস্যাও হতে পারে। ”

এ জনস্বাস্থ্যবিদ মনে করেন, পথশিশুদের এ সমস্যা দূরীকরণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাদের আবাসনের জন্য উদ্যোগ নিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

   

About

Popular Links

x