Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শিশুদের ঈদযাত্রা

ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে স্কুলে লম্বা ছুটি। গ্রামে যেতে বাস-ট্রেন-লঞ্চের অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন শিশুর সঙ্গে কথা হয় ঢাকা ট্রিবিউনের

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৩, ১০:২০ এএম

স্বপ্ন কিংবা ভোগান্তি ঈদযাত্রায় বড়দের সঙ্গী যা-ই হোক, শিশুরা নিয়ে যায় একরাশ আনন্দ। আবদ্ধ শহুরে পরিবেশ থেকে গ্রামে বাঁধনছাড়া শৈশবের আমেজ। হোক না সাময়িক, এটুকুই বড় প্রাপ্তি। পথ চেয়ে থাকা স্বজনদের স্নেহ আর উৎসবের আবহে কয়েকটা দিন তাদের কেটে যায় স্বপ্নের মতোই।

ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে স্কুলে লম্বা ছুটি। তাই গ্রামে যেতে উন্মুখ শিশুরা। এমনই কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

ঝক ঝক শব্দে ছুটে চলা ট্রেনের সওয়ার হওয়ার অপেক্ষায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভাই আর মামার সঙ্গে অপেক্ষা করছে ছোট্ট তামিম। তামিমের ভাষায়, “আমি গাইবান্ধায় যাচ্ছি ঈদ করতে। আমার কাছে ঈদ মানে সবাই মিলেমেশে  আনন্দ করা।”

তৃতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থী জানায়, “পরীক্ষা শেষ। এখন গ্রামে যাব ঈদ করতে। বাসের চেয়ে ট্রেনে যেতেই বেশি ভালো লাগে। তবে ট্রেন দেরি করলে মন খারাপ হয়। আশা করি আজ ট্রেন দেরি হবে না।”

একই স্টেশন থেকে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জীম যাচ্ছে মামি আর বোনের সঙ্গে সিরাজগঞ্জে। ট্রেনের জন্য অপেক্ষার ফাঁকে ঢাকা ট্রিবিউনকে সে জানায়, স্কুল খুলবে ৬ জুলাই। হাতে বাকি লম্বা সময়।

বাবা-মায়ের সঙ্গে ট্রেনে ওঠার ঝক্কির স্বাক্ষী হলো শিশুরাও। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে তোলা ছবি/ঢাকা ট্রিবিউন

“বাসের চেয়ে ট্রেনই বেশি পছন্দ। আমার কাছে ঈদ মানেই মজা আর আনন্দ। গ্রামের বাড়িতে আমার অনেক বন্ধু আছে এই ছুটিতে ওদের সঙ্গে আমি অনেক খেলব।”

একই আনন্দের ঝিলিক জীমের বোন মীমের চোখেও। মীমের কথা, “পরীক্ষা শেষ করে এভাবে ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাওয়ার মজা অন্যরকম। আব্বু-আম্মু এখন ঢাকায়। কাজ শেষ হলে তারাও চলে আসবেন।”

অন্যদিকে, রংপুরে যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষা করছিল মোবাশশিরা। ঈদে দাদাবাড়িতে যাওয়ার জন্য বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছে মহাখালী বাস টার্মিনালে। সবসময় বাসেই যাতায়াত করা এই শিশুর কথায়, “এটা কোরবানির ঈদ। পরীক্ষা শেষ তাই এবারের ঈদে আর পড়াশোনা করা লাগবে না। বাসে করে রংপুরে দাদুর বাড়িতে যাচ্ছি। ঈদে সারাদিন দাদুর কাছেই থাকব।”

ছয় বছর বয়সী আসিফের (ছদ্মনাম) দাদাবাড়ি ময়মনসিংহে। বাবার কোলে চেপে বসা শিশুটি জানায়, “দাদাবাড়িতে চাচ্চু আছে, ফুপি আছে।সবার সঙ্গে ঈদ করতে যাচ্ছি। আমার ট্রেন বেশি ভালো লাগে। ট্রেনের টিকিট না পেয়ে এবার বাসে যাচ্ছি। বাসে গরম লাগে।”

মহাখালী টার্মিনালেই দেখা হয় ঈদযাত্রী ইশতিয়াকের সঙ্গে। তার কাছে, “দেশে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করব। আমার বাস আর ট্রেন দুইটাই খুব ভালো লাগে। ঈদের ছুটিতে আমি পড়াশোনা করব না শুধু মজা করব।”

সদরঘাটের হুড়োহুড়ি পেরিয়ে পা রাখতে হয় দৈত্যাকৃতির লঞ্চগুলোতে। বাড়ি ফেরার সময় দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের প্রথমেই মনে আসে লঞ্চের কথা। সন্ধ্যের আলো ঝলমলে সদরঘাটে ঘরমুখী শিশুদের দিকে তাকালে এক চিলতে হাসি খেলবে যে কারও মুখে। গ্রামে যাচ্ছে তারা!

মায়ের সাথে হাত ধরে চাঁদপুরের লঞ্চের সামনে ফলমূল কিনছিল শিশু আব্দুল্লাহ।

দক্ষিণবঙ্গের মানুষের অন্যতম প্রধান বাহন লঞ্চ/ঢাকা ট্রিবিউন

প্রতিবেদকের সঙ্গে সে ভাগ করে নেয় ঈদযাত্রার আনন্দ, “স্কুলে ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেছে। চাঁদপুরে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। আমি খুবই আনন্দিত। বাড়ির সবার জন্য খাবার কিনছি। ছুটিই ভালো লাগে আমার। শহরের চেয়ে গ্রাম ভালো। ছুটি শেষে আমার ঢাকায় আসতে ইচ্ছা করে না। প্রতিবারই ফেরত আসার সময় কান্নাকাটি করি।”

আব্দুল্লাহর মা রাবেয়া বলেন, “ঈদের আনন্দ বড়দের চাইতে ছোটদেরই বেশি। একটু পরেই আমাদের লঞ্চ ছাড়বে। আমার ছেলে গ্রামের বাড়ি যেতে খুবই পছন্দ করে। গ্রামের মতো খোলামেলা জায়গা তো আসলে শহরে তেমন নেই। তাই আমার ছেলে দেশের বাড়ি যেতে খুব ভালোবাসে।”

মিনহাজকেও বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় লঞ্চে। এই মাদ্রাসাছাত্রের কথায়, “আমি দাদা-দাদির সঙ্গে ঈদ করব। খুব মজা হবে। বাড়িতে অনেক বন্ধু আছে। ঈদের সময় লেখাপড়া করতে হয় না। বেশ ভালোভাবে ছুটি কাটানো যায়।”

জারিফের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। বাবা-মায়ের সঙ্গে লঞ্চ ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা এই শিশু জানায়, “স্কুল ছুটি হলে খুব আনন্দ হয়। বরিশালে আমার অনেক বন্ধু আছে। ছুটিতে গিয়ে ওদের সঙ্গে খেলব। বাড়িতে গিয়ে এবার কোরবানির গরু কিনব। লঞ্চে যেতে খুব ভালবাসি।”

তবে জারিফের মা নুসরাতের কণ্ঠে শোনা গেল সতর্কতার কথা। তিনি বলেন, “শিশুরা ঈদ এলেই আনন্দে মেতে ওঠে। এটাই স্বাভাবিক। তবে গ্রামে অনেক পুকুর।তাই ছেলেকে চোখে চোখে রাখি। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তো প্রায় ঘটে।”

ঈদে আনন্দের পাশাপাশি শিশুদের প্রতি বাড়তি নজর রাখাও জরুরি বলে মনে করেন এই মা।

   

About

Popular Links

x