Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কৃত্রিম চিনিতে ‘ঝুঁকি’ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

ডব্লিউএইচও বলছে, চিনির বিকল্প হিসেবে মানুষের কৃত্রিম সুইটেনার গ্রহণের ভাবনা তাদের খুব বেশি সুবিধা দেয় না

আপডেট : ২০ মে ২০২৩, ০৫:১৫ পিএম

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে খাবারে চিনির বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম চিনি গ্রহণ কোনো কাজে আসে না, বরং এটিতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চিনির বদলে যারা “নন-সুগার সুইটেনার” (এনএসএস) গ্রহণ করেন, দীর্ঘ মেয়াদে সেটি তাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না। উল্টো বেশিদিন এই কৃত্রিম সুইটেনার গ্রহণ টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

খাদ্য ও পানীয় শিল্পের পণ্যগুলোতে সাধারণত অ্যাসপার্টেম, স্টিভিয়া ও স্যাকারিনের মত উপাদানগুলো যোগ করা হয়, তবে সেগুলো অন্তত ওই সব খাদ্যপণ্যে চিনি বা শর্করার পরিমাণ কমানোর জন্য ব্যবহার হয় না।

ডব্লিউএইচও বলছে, চিনির বিকল্প হিসেবে মানুষের কৃত্রিম সুইটেনার গ্রহণের ভাবনা তাদের খুব বেশি সুবিধা দেয় না।

ডব্লিউএইচও”র পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা পরিচালক ডা. ফ্রান্সেস্কো ব্রাঙ্কা বলেন, “ফ্রি সুগার বা মুক্ত শর্করার পরিবর্তে এনএসএস দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার মানুষের ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না। এই ধরনের শর্করা গ্রহণ কমাতে মানুষকে অন্য উপায় গ্রহণ করতে হবে। প্রাকৃতিকভাবেই শর্করা রয়েছে এমন খাবার যেমন, ফল অথবা মিষ্টিহীন খাবার ও বেভারেজ গ্রহণ করতে হবে।”

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন বলছে, ফ্রি সুগার বলতে খাদ্য ও পানীয়তে যোগ করা বাড়তি সুগারকে বোঝায়, যা সাধারণত মধু, সিরাপ ও ফলের জুসে ব্যবহার করা হয়। এই সুগারগুলো খাদ্যের সেলগুলোর ভেতরে থাকে না।

অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে ফল, শাকসবজি ও দুধে যে সুগার থাকে, সেগুলো মানুষের স্বাস্থ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। বরং প্রয়োজনীয় আঁশ বা বাড়তি পুষ্টি যোগায় শরীরে।

ফ্রান্সেস্কো ব্রাঙ্কা বলেন, “এনএসএস বা নন-সুগার সুইটেনার ডায়েটের কোনো অপরিহার্য উপাদান নয়, এতে কোনো পুষ্টিগুণও নেই। স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য মানুষের ডায়েটের প্রথমদিকেই এই ধরনের মিষ্টি জাতীয় উপাদানের ব্যবহার কমানো উচিত।”

তবে পুষ্টি গবেষক ও ব্রিটিশ কোয়াড্রাম ইনস্টিটিউটের ইমেরিটাস ফেলো ডা. ইয়ান জনসন বলেন, ডব্লিউএইচও”র এই সুপারিশকে এইভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয় যে “ওজন নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে চিনি খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই”।

তার মতে, কৃত্রিম সুইটেনার ব্যবহারের একটি ভালো উপায় হল ফ্রি-সুগার সমৃদ্ধ প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ কমানো। যেমন, চিনির মিষ্টি জাতীয় বেভারেজ ও মিষ্টির উৎস হিসেবে হালকা প্রক্রিয়াজাত ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকা। এরপর একটা সময় পর মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি সামগ্রিক চাহিদাকেই কমিয়ে আনার চেষ্টা করা।

ব্রিটিশ “অলাভজনক” গবেষণা প্রতিষ্ঠান “কোচরান” এর ২০১৯ সালের একটি গবেষণা পর্যালোচনা করে এই নতুন পরামর্শ দিচ্ছে ডব্লিউএইচও।

ওই গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, এনএসএস গ্রহণের কোনো স্বাস্থ্য উপকারিতা নেই, বরং সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিকগুলো বাদ দেওয়া যায় না।

   

About

Popular Links

x