চায়ের ব্যাপারে বাঙালির সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা কিংবা রাতের হিসেব নেই। অনেকের কাছে দিনের শুরু কিংবা শেষ করার উপলক্ষ এই একটি পানীয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চায়ে রয়েছে ভিন্নতা। দুধ চা, লাল চা, লেবু চা, আদা চা, তুলসি চা, মধু চায়ের সঙ্গে এখন পাওয়া যায় তেঁতুল চা, মাল্টা চা, মরিচ চা ইত্যাদি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মটকা চা। রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মটকা চা জায়গা করে নিয়েছে চা-প্রেমীদের মনে। অনেকেই আবার এই অনন্য স্বাদের চায়ের দোকান করে হয়ে উঠছেন স্বাবলম্বী।
এমনই একজন কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর এলাকার রাশিদুল ইসলাম বাবু। তার মটকা চায়ের দোকানটি ইতোমধ্যেই হয়ে উঠেছে বেশ জনপ্রিয়। কুমারখালীর গার্লস স্কুল সংলগ্ন দোকানটিতে স্থানীয়রা তো বটেই, ভিড় করেন দূর-দূরান্তের চা-প্রেমীরা।
নিজের নামেই দোকানের নামকরণ করেছেন চা বিক্রেতা বাবু। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ সাতজনের সংসার। স্কুলের গণ্ডি না পেরোনো বাবুর এক সময় লন্ড্রির ব্যবসা ছিল। কিন্তু অভাব-অনটন সেই ব্যবসাকে বেশিদূর এগোতে দেয়নি। ২০১২ সালের দিকে ছোট পরিসরে একটি চায়ের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করা করেন। ২০১৮ সালে মটকা চা বিক্রি শুরু করেন তিনি।
বাবুর দাবি, কারো কাছ থেকে না শিখেই তিনি মটকা চা তৈরি করেন।
তিনি বলেন, “প্রতিদিন প্রায় ৭০-৮০ কাপ মটকা চা বিক্রি করা হয়। তবে ছুটির দিন হলে বিক্রি ১০০ কাপ ছাড়িয়ে যায়। শীত মৌসুমে বেচাকেনা বেড়ে যায়।”
বাবুর ভাষ্য, “কুষ্টিয়া জেলায় আমিই একমাত্র মটকা চা বিক্রি করি। মটকা চা খেতে প্রায় প্রতিদিনই অন্য জেলা থেকেও চা পিপাসুরা আসেন।”
প্রস্তুত প্রণালীই মটকা চায়ের অনন্য স্বাদের কারণ/ঢাকা ট্রিবিউনতার দোকানে মটকা চা তৈরিতে দুধ-চিনি ছাড়া আর কোনো মসলা ব্যবহার করা হয় না। প্রতি কাপ চায়ের দাম রাখেন ৩৫ টাকা। এছাড়া বাবুর দোকানে দুধ চা, লাল চা, মধু চা-ও পাওয়া যায়।
কুষ্টিয়ার বাসিন্দা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার ওয়ালিউল ইসলাম আজিম। তিনিও এই মটকা চায়ের ভক্ত।
আজিম বলেন, “আমি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া এলে সময় থাকলেই মটকা চা খাওয়ার জন্য বাবুর দোকানে যাওয়া হয়। এই চায়ের স্বাদ অতুলনীয়।”
স্থানীয় সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মশিউর রহমান বলেন, “আমি প্রায়ই মটকা চা খেতে এখানে আসি। মটকা চায়ের বৈশিষ্ট্য হলো এক কেজি দুধে মাত্র পাঁচ কাপ চা হয়। যার ফলে অন্যান্য চায়ের থেকে এই চায়ের স্বাদে ভিন্নতা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আশপাশের অনেক জেলা থেকেই চা-প্রেমীরা মটকা চায়ের স্বাদ নিতে এখানে আসেন।”
জানা গেছে, দেশে প্রথম মটকা চায়ের আবির্ভাব রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার “মটকা চা এবং মোমো” ক্যাফেতে। ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দোকানটির যাত্রা শুরু।
সাধারণত মাটির পেয়ালায় পরিবেশন করা হয় মটকা চা। এই পেয়াইলাই মটকা চায়ের মূল আকর্ষণ।
সুপ্রাচীন পানীয় চায়ের উৎপত্তি ও প্রচলনের পেছনে নানা ইতিহাস পাওয়া যায়। তবে অপেক্ষাকৃত নতুন সংযোজন হলেও মটকা চায়ের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস এখনো পাওয়া যায়নি। অনেকের মতে, মটকা চা এসেছে ভারতের রাজস্থান থেকে। ভারতে বেশিরভাগ মানুষ মটকায় চা পান করেন। সে কারণে এর উৎপত্তিস্থল ভারত বলেই ধরে নেওয়া হয়।



