ঈদের রেসিপিতে চটপটি-ফুচকা ছিল। চলত বেড়াতে কোথাও গিয়েও। কিন্তু একালে খাবার হিসেবে ফুচকা গোত্র সর্বত্র। মহল্লার দুয়ারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গেটে, বাসস্ট্যান্ডে, লঞ্চ টার্মিনালে…কোথায় নেই পানিপুরি, ভেলপুরি আর ফুচকা। যে নামেই তাকে ডাকা হোক। তা ফুচকা গোত্রই। উত্তর ভারতে এ খাবারের জন্ম হলেও এখন বিস্তৃত সবখানে। মুখরোচক স্বাদের গুণে ফুচকা জয় করেছে সব সীমানা।
শহর ঢাকায় নিউমার্কেটের ফুচকা একসময় বিখ্যাত ছিল। এখন ঘটেছে মজার বিকেন্দ্রিকরণ। জায়গায় জায়গায় ফুচকা মিলছে। আর খাদ্য রসিকরা খাচ্ছেন তা আঙুল ডুবিয়ে। ফুচকা খাদকদের বয়সের গাছ-পাথর নেই। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই এতে মজে আছেন। কারও বেশি লাগে টক। কেউ পছন্দ করেন বেশি ঝাল। খাবার হিসেবে হালের ট্রেন্ড যেন এই ফুচকা।
ফুচকার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বহু কিছু। দই মেলালে হয় দই ফুচকা। এর সাইজেও ভিন্নতা অন্য নামে পরিচিত করায়। আগে চটপটি-ফুচকা সমার্থক হয়ে একসঙ্গে জুড়ে থাকত। এখন বিচ্ছেদ ঘটেছে তাদের। ভেলপুরি, পানিপুরি হয়ে ফুচকা গোত্রের নেতৃত্বে আসীন। চটপতি যেন অনেকটাই গুরুত্ব হারিয়েছে। বরং গুরুত্ব বেড়েছে ঘুঘনির।
নানা নিরীক্ষা চলছে ফুচকা নিয়ে। সালাদ হিসেবে শসা যুক্ত হচ্ছে এতে। ডিম আগেও ছিল। এখনও আছে। তবে দাম বাড়ায় পরিমাণে তা কম দিচ্ছেন বিক্রেতা মামারা।
শহরের মোড়ে মোড়ে যেমন দাঁড়িয়ে খাওয়া চলে। আবার অভিজাত এলাকায় আছে বিশেষায়িত ফুচকা জোন সমৃদ্ধ ফুডকোর্ট। জায়গায় বসে খাওয়া যেমন চলছে। তেমনই আছে ফুচকা পার্সেলে নিয়ে বাসায় গিয়ে খাওয়ার ব্যবস্থা পর্যন্ত। শহরের অনেক খ্যাতিমান ফুচকার দোকানের সামনে এখন ডেলিভারি বয়দের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অর্ডার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা ঝিমায় দুই চাকার সাইকেলে।
ফুচকা ঘরেও বানানো যায়। তবে ভোজনরসিকদের কাছে রাস্তার ফুচকাই প্রিয়। গুরুজনরা কনিষ্ঠদের বারবার সতর্ক করেন, “বাইরে কিছু খাবি না!” কিন্তু বাইরের খবর ঘর জানে না। কোনো না কোনোভাবে ফুচকা খাওয়া হয়েই যায়। এতটাই সহজলভ্য আর জনপ্রিয় খাদ্যের এই ধরনটি।
তবে ফুচকার টক নিয়ে অনেকের অভিযোগ আছে। বিশেষত, রাস্তাঘাটের টকের। কোন পানিতে তা তৈরি হচ্ছে?- তা নিয়ে অনেকের উদ্বেগ আছে। কিন্তু কোনো উদ্বেগেই ফুচকার বিক্রিতে ভাটা পড়ে না।
ফুচকার জয়জয়কার শহরের খাদ্য সংস্কৃতিতে এক নতুন যোজনা। স্বাস্থ্যবিধিতে প্রভাব না ফেললে এতে দোষের কী?



