Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মিথ বনাম বাস্তবতা

পাঠ্যপুস্তকে যৌন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা

  • সাম্প্রতিক কয়েক দশকে ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে গর্ভধারণ, বিভিন্ন ধরনের যৌন রোগ, যৌন নির্যাতন ইত্যাদি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে
  • পশ্চিমা বিশ্ব অনেক আগে থেকেই এই ব্যাপারে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:২৫ পিএম

যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও প্রস্তুতি অর্জন তরুণ-তরুণীদের অধিকার। বরাবরের মতোই সিএসই বা কম্প্রিহেন্সিভ সেক্সুয়াল এডুকেশনের মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা ও সচেতনতা তৈরি করা। 

সাম্প্রতিক কয়েক দশকে এশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে গর্ভধারণ, বিভিন্ন ধরনের যৌন রোগ, যৌন নির্যাতন ইত্যাদি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তাই এসব ঘটনার আলোকে বলা যায়, সেক্সুয়াল এডুকেশন কেবল পশ্চিমা বিশ্বের জন্যই না, বরং বিশ্বব্যাপী প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়।

বিশ্বে ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী শিশু এবং তরুণীর সংখ্যা এখন ১.৮ বিলিয়ন । এর মধ্যেই প্রতি বছর ১৫ মিলিয়ন মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই  বিয়ে হয়ে যায়। ১৫ থেকে ১৯ বছর বছর বয়সী আরও প্রায় ১৬ মিলিয়ন মেয়ে এবং ১৫ বছরেরও কম বয়সী ১ মিলিয়ন মেয়ে এই বয়সে সন্তান জন্ম দেয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মেয়ে সন্তান প্রসব করে যারা ১৮ বছরেরও কম বয়সী। এমনকি অনেকে শারীরিকভাবে পরিপক্ক হওয়ার আগেই সন্তান জন্ম দেয়। 

এ ধরনের অবাস্তব চিত্রের মূল কারণ হচ্ছে, ছেলে-মেয়েদের নিজের শারীরিক ও যৌন স্বাস্থ্য ও অধিকারের ব্যাপারে পরিষ্কার জ্ঞান না থাকা। আমাদের সামাজিকীকরণ কিংবা পাঠ্যপুস্তক কোথাওই এই ব্যাপারে সরাসরি জানার তেমন সুযোগ নেই। সুযোগ থাকলেও বিস্তারিত থাকে না, অনেকে অভিভাবক কিংবা শিক্ষক স্বেচ্ছায়ই সংকোচ বোধের কারণে বিষয়গুলো এড়িয়ে যান। পরিশেষে? ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে ছেলে-মেয়েরা বড় হতে থাকে।

পাঠ্যপুস্তকে যৌন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে পশ্চিমা বিশ্ব অনেক আগে থেকেই এই ব্যাপারে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। কিন্তু অনেক দেশে এখনো এই কার্যক্রম সার্বিকভাবে বাস্ততবায়ন হচ্ছে না। এর পেছনে দায়ী কিছু গৎবাঁধা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি। এ ধরনের বিষয়গুলো প্রায়োগিক ক্ষেত্র সবসময়ই সমালোচনার শিকার হয়েছে, বিশেষ করে রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায়। 

রক্ষণশীল সমাজ মনে করে, এসব পশ্চিমাদের সংস্কৃতি। ছেলে-মেয়েরা যা শিখবে-জানবে পরিবার থেকেই জানবে। এর বাইরে যা জানবে তার সবই নষ্টের মূল। 
কিন্তু দেখা যায়, বেশিরভাগ পরিবারেই একটি বদ্ধমূল ধারণা থাকে, বিয়ের আগে যৌন শিক্ষা অপ্রয়োজনীয়। ফলে পরিবার থেকে জানার সেই সুযোগটা আর থাকে না। কিন্তু এই চিন্তার নকশা পাল্টাতে হলে বোঝা প্রয়োজন, সেক্সুয়াল এডুকেশন কেবলই “যৌনতা” সম্পর্কিত তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। বরং এটি তরুণদের মধ্যে নিরাপদ যৌনতা অনুশীলনের জন্য সব উপায় জানায় এবং সে সম্পর্কে তাদের নিজস্ব মূল্যবোধ অর্জনে সহায়তা করে।

এমনকি একটি পাঁচ বছর বয়সী শিশুরও তার শরীর সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্যগুলো জানা ও বোঝা প্রয়োজন। তা না হলে ছোটবেলা থেকেই অনেক ভুল বিশ্বাস নিয়ে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। যেমন ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের অনেক মেয়েই এখনো মাসিককে একটি রোগ মনে করে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের  ৫১% কিশোরী এবং মালাউইয়ের ৮২% কিশোরীর মধ্যে কেউই মাসিক হওয়ার আগে এর ব্যাপারে নূন্যতম জ্ঞানও রাখেনা। এইচআইভির মতো রোগের শিকারও অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েরাই বেশি। বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ১০০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন মেয়ে কখনো না কখনো তাদের জীবন পরিক্রমায় জেনিটাল মিউটিলেশনের মধ্য দিয়ে যায়।

তাই সিএসই-এর মাধ্যমে যৌন শিক্ষা ও আচরণ, গর্ভধারণের ঝুঁকি, এইচআইভি, যৌন সংক্রমিত রোগব্যাধির ব্যাপারে জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেই বোঝা যায় এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা বলতে গেলে এক কথায় বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। তাছাড়া পাঠ্যপুস্তকে সিএসই অন্তর্ভুক্তির মূল উদ্দেশ্য অপ্রাসঙ্গিক যৌন আলোচনা না। তাই এটি শিশুর সুস্থ মনস্তাত্ত্বিক বিকাশকে বিকৃত করবে- এমনটা ভাববার অবকাশ নেই। বরং পাঠ্যপুস্তকে সিএসই এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যেন সেখানে উল্লিখিত বিষয়গুলো শিশু-কিশোরদের বয়স ও বিকাশ উপযোগী হয়। তথ্যগুলো ক্রমান্বয়ে এমনভাবে পরিবর্তিত এবং পরিকল্পিত করা হয় যেন মানসিক ও শারীরিক পরিপক্বতা বাড়ার সাথে সাথে তাদের এই ব্যাপারে জ্ঞান ও দক্ষতাও একই ধাঁচে বাড়তে থাকে।

ইউথ পলিসি ফোরাম ও “অধিকার এখানে, এখনই” প্রকল্পের যৌথ প্রয়াসের মিথবাস্টার সিরিজের এটি তৃতীয় পর্ব। এই প্রকল্প নিয়ে আরো জানতে ভিজিট করুন - www.ypfbd.org

About

Popular Links