Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় যা করবেন

এ পর্যন্ত সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী ও ভোলায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ০১:৫৯ পিএম

বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল দুর্বল হয়ে পড়েছে। সোমবার (২৭ মে) বেলা ১১টার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৯ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ঘূর্ণিঝড়ের জন্য পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে দেওয়া ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দেওয়া ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেতও প্রত্যাহার করা হয়েছে। চার বন্দরেই ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রবিবার রাত আটটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলাসহ উপকূলের বিভিন্ন জেলায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।

এ পর্যন্ত সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী ও ভোলায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গাছপালা ‍উপড়ে বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলের রাস্তাঘাট। বিদ্যুবিহীন অবস্থায় রয়েছে উপকূলীয় জেলাগুলোর বেশিরভাগ জায়গা।

তবে ঝড়ের আগে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ঝড়ে জানমালের ক্ষতি আশঙ্কার চেয়েও কমই হয়েছে। যদিও ঝড়ের ক্ষতি মোকাবিলায় শুধুমাত্র পূর্ব প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়। ঝড় থেমে যাওয়ার পরও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-

গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে

  • যারা শক্ত-সমর্থ আছেন তারা সবাই একত্রিত হয়ে রাস্তাঘাটের ওপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। এতে সাহায্যকারী দল সহজে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে।
  • নিজের শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী বিপর্যস্ত মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করুন। সম্ভব হলে নিজের গ্রামে অন্যদের থাকার সুযোগ করে দিন। এনজিও বা সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় বসে থাকবেন না।
  • অতিদ্রুত উদ্ধার দল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার করুন।
  • কোনো অবস্থাতেই ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে প্রবেশ করবেন না। ভাঙা বাড়ি মেরামতের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকবেন।
  • ভেঙে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি, ছেড়া তার এবং তৎসংলগ্ন জলাবদ্ধতা এড়িয়ে চলুন।
  • নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ লোকদের নিকট ত্রাণ ঠিকমতো পৌছাচ্ছে কি-না সেটা নিশ্চিত করুন।
  • পুকুরের বা নদীর পানি সরাসরি না খেয়ে ফুটিয়ে পান করুন। বৃষ্টির জমানো পানি পান করুন।
  • কম সময়ে উৎপাদনশীল ধান ও শাক-সবজির জন্য জমি প্রস্তুত করুন, বীজ সংগ্রহ করুন। অতঃপর চাষাবাদ শুরু করুন, যেন যথাসম্ভব দ্রুত ফসল ঘরে আসে।

শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে

  • প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর মতো এখানেও কোনো অবস্থাতেই ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ভেতর ঢুকবেন না। পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করে ভাঙা বাড়ি মেরামতের ব্যবস্থা করবেন।
  • গ্রামের তুলনায় শহরে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারের পরিমাণ বেশি। তাই ঝড়ের পরে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়া বৈদ্যুতিক খুঁটি, ছেঁড়া তার পড়ে থাকতে পারে। এগুলোর ব্যাপারে সাবধানে থাকবেন।

ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতিগুলো সেই অর্থে পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হয়ে উঠে না। এজন্য সরকারি কর্মসূচীগুলোর পাশাপাশি শহরের সচ্ছল মহলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধুমাত্র ত্রাণ বিতরণের পরিবর্তে বিপর্যস্ত মানুষগুলোর জন্য পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘূর্ণিঝড়ের পরে একদম শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না।

About

Popular Links