শীতের আগমনে দেশের উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া যেন একটি স্বর্গীয় আবহে আবৃত হয়ে ওঠে। নভেম্বর মাসে ভোরে যখন সূর্যের আলোর উষ্ণতা তেঁতুলিয়ার চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, তখনই দেখা মেলে পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব দৃশ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা এই দৃশ্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন এখানে, সেই আড়াল থেকে ঝলমলে রূপে উদ্ভাসিত হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। আকাশ পরিস্কার থাকলে তেঁতুলিয়া থেকে এই পর্বতের বরফে ঢাকা চূড়া সহজেই দৃশ্যমান হয়।
প্রকৃতির এই আশ্চর্য উপহারটি প্রতিবছর অক্টোবরের শেষ থেকে শুরু করে নভেম্বর মাস পর্যন্ত তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা যায়। যদিও খুব অল্প দিনই প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের সাক্ষী হওয়া সম্ভব হয়, তবুও স্থানীয়রা ও পর্যটকরা প্রতিটি বছর এই অসাধারণ দৃশ্যের প্রত্যাশায় অপেক্ষা করেন। কাঞ্চনজঙ্ঘার উপর ভোরের প্রথম আলো পড়ার সাথে সাথে সাদা বরফাচ্ছাদিত শৃঙ্গটি এক আশ্চর্য স্বচ্ছতার সাথে ফুটে ওঠে, যা বাংলার প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
তেঁতুলিয়ার শালবন এলাকা, সরকারি ডাকবাংলো, ও তেতুলিয়া উপজেলা চত্বর কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনের জন্য খুবই জনপ্রিয় স্থান। পর্যটকরা সূর্যোদয়ের মুহূর্তটি উপভোগ করতে অন্ধকার ভোরে ভিড় জমাতে শুরু করেন। এই শীতকালীন সময়ে আবহাওয়া অনেক স্বচ্ছ থাকে, যা কাঞ্চনজঙ্ঘাকে আরও স্পষ্ট ও উজ্জ্বল করে তোলে। বাংলাদেশের মতো নিম্নাঞ্চল থেকে এত উঁচু পর্বতশৃঙ্গের দৃশ্য দেখা এক বিরল অভিজ্ঞতা।
কাঞ্চনজঙ্ঘা, ভারতের সিকিম ও নেপালের সীমান্তে অবস্থিত, প্রকৃতির বিস্ময়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এর উচ্চতা ৮৫৮৬ মিটার, যা পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত। তবে বাংলাদেশের সীমানা থেকে এর দৃশ্য পাওয়া এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা, যা শুধু তেঁতুলিয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্যই সম্ভব।
সাধারণ পর্যটকদের পাশাপাশি, ফটোগ্রাফার, পরিবেশবিদ এবং লেখকরাও এই সময়ে তেঁতুলিয়ায় ভিড় করেন, যেন তারা এই শীতের সকালে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে তাদের কাজে তুলে ধরতে পারেন।



