শীতকালে পাহাড়ি দুর্গম পথে ট্রেকিং করার শখ অনেকেরই থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু শখ থাকাটাই যথেষ্ট না। বরং ট্রেকিংয়ের জন্য থাকতে হয় আলাদা প্রস্তুতি। ট্রেকিং করতে শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ এবং তরতাজা থাকা খুবই জরুরি। ট্রেকিং করতে যাওয়ার আগে অবশ্যই শারীরিক ভাবে সুস্থ না থাকলে যখন তখন বিপদে পড়তে পারেন। কাজেই ট্রেকিং করতে গেলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করতে হবে এবং কিছু নিয়মও মানতে হবে।
তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে নিজেকে যেভাবে প্রস্তুত করবেন।
শরীরকে প্রস্তুত করা
সবার আগে জরুরি হলো শারীরিক সুস্থতা। ট্রেকিং করতে হয় পাহাড়ি এলাকায়। হাঁটতে হয় পাহাড়, জঙ্গল বা নদী উপত্যকার মধ্যে দিয়ে। এক্ষেত্রে ফুসফুসের জোর থাকাটা জরুরী। যাদের হাঁটাচলার অভ্যাস নেই, বসে কাজ করেন, তাদের ট্রেকিংয়ে যাওয়ার অন্তত ২ মাস আগে থেকেই প্রত্যেকদিন হাঁটাহাঁটি, দৌড়নো, জগিং করা উচিত। সেই সঙ্গে কার্ডিয়ো ব্যায়াম, ওজন তুলে ব্যায়াম করার অভ্যাস করতে হবে। পায়ের শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করতে হবে। এর জন্য সিঁড়ি দিয়ে উঠানামাও করতে পারেন। ঠিক কত ক্ষণ দম ধরে রাখতে পারছেন, কখন হাঁপিয়ে যাচ্ছেন তার হিসেব রাখুন। যদি শ্বাসকষ্ট হয়, তা হলে শ্বাসের ব্যায়াম অভ্যাস করতে হবে অনেক আগে থেকেই।
মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া
অনেক সময় দেখা যায় ভিন্ন কোথাও গেলে মন খারাপ হয়, মেজাজও খারাপ হয়। তখন বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ না থাকলে অনেকের মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়। অনেক সময়ে অজানা ভয় কিংবা আতঙ্কও চেপে বসে। যদি উদ্বেগে বেশি ভোগেন বা নার্ভের কোনো সমস্যা থাকে, তা হলে ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে সাইকোলজিস্টদের পরামর্শ নিতে হবে। মন হালকা রাখতে নিয়মিত মেডিটেশন করলে সুফল পাওয়া যাবে।
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখা
ট্রেকিংয়ের সময় নিজের জিনিসপত্র নিজের কাধেঁই নিতে হয়। তাই যাওয়ার আগে নিজের সুবিধার্থে খুব হালকা, ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ হলে ভালো হয়। ক্যামেরা, বাইনোকুলার, ল্যাপটপ রাখার জন্য জল নিরোধক জিপলক ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। সঙ্গে ওয়াটার পিউরিফায়ার পানির বোতল রাখতে পারেন। বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে পড়লে যাতে বৈদ্যুতিক ডিভাইসগুলো সুরক্ষিত থাকে, সে জন্য পানিনিরোধক মোবাইল কেস সঙ্গে নিয়ে নিন। দুর্গম পথে মোবাইল চার্জ দিতে পারবেন না। তাই সঙ্গে পাওয়ার ব্যাংক অবশ্যই নিতে পারেন। এছাড়াও বাড়তি একসেট টি-শার্ট, ট্রাউজ়ার্স অবশ্যই রাখুন। সঙ্গে কিছু শুকনো খাবার, পানি আর ম্যাপ রাখতেই হবে।
প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নেওয়া
ট্রেকিং করতে গেলে ইনজুরি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে রাখাই উত্তম। আপনি যা যা ওষুধ খান তা তো নেবেনই, সঙ্গে ইনহেলার রাখতেও ভুলবেন না। নিজের ফার্স্ট এইড বাক্স সঙ্গে নিয়ে নিন। সর্দি-কাশি থাকলে নাকের ড্রপ সঙ্গে নিয়ে নিন। আর সঙ্গে রাখুন অ্যালার্জির কিছু ওষুধ। নতুন জায়গায় পানি বা খাবার থেকে অ্যালার্জি হলে তখন কাজে লাগবে। মাথা ধরা বা মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে, তার ওষুধ নিতেও ভুলবেন না।



