আমরা প্রায়ই শিশুদের প্রতি যৌন-নির্যাতন কিংবা শিশু ধর্ষণের কথা শুনি। নির্যাতিত এই শিশুদের মধ্যে শুধু মেয়ে নয়; ছেলে শিশুও থাকে।
শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ তৈরি হওয়ার ফলে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনার হার বৃদ্ধি পাওয়া বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্যই এখন চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে অনলাইনে শিশুদের সাথে যৌন হয়রানিমূলক আচরণের হার সম্প্রতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বেড়েছে শিশু পর্নোগ্রাফিও।
তবে শুধু অনলাইনে নয়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের সঙ্গে যৌন সহিংসতা, যৌন হয়রানিমূলক আচরণ বা যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যারা শিশুদের প্রতি যৌন আকৃষ্ট হয় বা তাদের সঙ্গে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হয় কিংবা হতে চায়, তারা “পেডোফিলিয়া” আক্রান্ত।
“পেডোফিলিয়া” একটি যৌন-বিকৃত মানসিক রোগ৷ এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের “পেডোফিল” বলা হয়। তবে এই ধরনের বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষদের শনাক্ত করা খুব সহজ নয়৷ আবার, বিশ্বে “পেডোফিল”-দের সংখ্যা একদমই কম নয়।
এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিরা শিশুদের প্রতি আকৃষ্ট থাকে। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধি ঘটেনি এমন শিশুদের প্রতিই তাদের আগ্রহ বেশি।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পেডোফিল খুব সহজেই শিশুদের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। আর শিশুরাও তাদের কথা বা দুষ্টুমিতে সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।
বস্তুত শিশুরা পেডোফিলদের দ্বারা যৌননির্যাতনের শিকার হয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা বলে, আপনার প্রতিবেশিটিও একজন পেডোফাইল হতে পারে। ছেলে শিশু এবং মেয়ে শিশু উভয়েই পেডোফিল দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ইয়োরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭টি দেশে অনলাইনে শিশুদের সাথে যৌন হয়রানি ও যৌন নির্যাতনমূলক আচরণ রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে বলে ২০২০ সালের মে মাসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ইউরোপোলের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনটিতে ধারণা প্রকাশ করা হয়, শিশুদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টির সুযোগ কাজে লাগাতে চায় পেডোফিলরা।
বাংলাদেশে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তিনজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল “শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি করে ছড়িয়ে” দেওয়ার।
তবে, পেডোফিলিয়ার সংজ্ঞা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন ও ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত একাধিক গবেষণা প্রতিবেদনে ধারণা প্রকাশ করা হয় যে, শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চাওয়া সব ব্যক্তিকেই পেডোফিল বলা যায় না, আবার সব পেডোফিলরা শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চায় না।
অধিকাংশ গবেষণাতেই ধারণা প্রকাশ করা হয়, প্রাপ্তবয়সে পেডোফিলিয়ার উপসর্গ প্রকাশিত হওয়া ব্যক্তিদের সিংহভাগ শৈশবে শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পেডোফিলদের যৌন বিকৃতির অন্যতম কারণ শৈশবে জটিলতা থাকা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া।
সাধারণত পেডোফিলদের অধিকাংশ পুরুষ হলেও ২০১০ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের জার্নালে প্রকাশিত হওয়া এক রিপোর্টে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের দ্বারা ছেলে বা মেয়ে শিশুর যৌন নির্যাতনের কয়েকটি ঘটনাও তুলে ধরা হয়।



