ভূমিকম্প অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো একটি দুর্যোগ হলেও এর পূর্বাভাস করা কঠিন। স্বাভাবিক অবস্থা থেকে এটি হঠাৎ অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি করে। ফলে মানুষ আতঙ্কিত হয়। এতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে। বাংলাদেশে অবশ্য বড় ভূমিকম্প তেমন একটা হয়নি। হতাহতের সংখ্যাও বেশি নয়। তবে হতাহতের কারণ ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হওয়া। এ জন্য দরকার ভূমিকম্প নিয়ে সচেতন হওয়া ও এ সময় কী করণীয় তা ভালোভাবে বোঝা।
ভূমিকম্পের ক্ষতি এড়াতে সব সরকারি ও বেরসরকারি প্রতিষ্ঠনকে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ করে ভূমিকম্পে দালানকোঠার নিচে পড়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়। পরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ না করলে, প্রয়োজনীয় বিল্ডিং কোড মেনে না চললে কী ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার। এছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন নিরাপদভাবে স্থাপনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।
ভূমিকম্পের সময় যা করবেন
ভূকম্পন অনুভূত হলে আতঙ্কিত হবেন না। নিজেকে শান্ত রাখুন। বাড়ির বাইরে থাকলে ঘরে প্রবেশ করবেন না। একতলা দালান হলে দৌড়ে বাইরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করুন। বহুতল ভবনের ভেতরে থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে টেবিল, ডেস্ক বা শক্ত কোনো আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিন; কাচের জিনিসের কাছ থেকে দূরে থাকুন। লিফট ব্যবহার করেবেন না। উঁচু দালানের জানালা বা ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করবেন না। ভূমি ধসে পড়ার সম্ভাবনা আছে এমন উঁচু ভূমি থেকে দূরে থাকুন। ভূমিকম্পের সময় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে স্কুল ব্যাগ মাথায় দিয়ে শক্ত বেঞ্চ অথবা শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিন। ঘরের বাইরে থাকলে গাছ, উঁচু বাড়ি, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দুরে খোলাস্থানে আশ্রয় নিন। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, হাসপাতাল, মার্কেট ও সিনেমা হলে থাকলে বের হওয়ার জন্য দরজার সামনে ভিড় কিংবা ধাক্কাধাক্কি না করে দুহাতে মাথা ঢেকে বসে পড়ুন। ভাঙা দেয়ালের নিচে চাপা পড়লে বেশি নড়া চড়ার চেষ্টা করবেন না। কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন, যাতে ধুলা-বালি শ্বাস নালিতে না ঢোকে। একবার কম্পন হওয়ার পর আবারও কম্পন হতে পারে। তাই সুযোগ বুঝে বের হয়ে খালি জায়গায় আশ্রয় নিন। গাড়িতে থাকলে ওভার ব্রিজ, ফ্লাইওভার, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুটি থেকে দূরে গাড়ি থামান। ভূকম্পন না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতের থাকুন।
ব্যাটারিচালিত রেডিও, টর্চলাইট, পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম বাড়িতে রাখুন। মোবাইল ফোন চার্জ করার সহায়ক উপায় রাখুন। খাবার, পানি ও ওষুধ সংগ্রহ করুন কারণ দোকান ও ফার্মেসি বন্ধ থাকতে পারে।
ভূমিকম্পের পরে করণীয়
ঘর যদি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তাহলে ভূমিকম্পের পরে ঘরে ফিরুন। গ্যাস লাইন লিক হয়েছে কিনা তা না জেনে গ্যাসের চুলা জ্বালাবেন না। সতর্কবার্তা শুনুন, আরও ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কিনা। ধ্বংসাবশেষে খালি পায়ে বা সাধারণ কোনো জুতা পরে হাঁটবেন না।
বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা নিরাপদ না থাকলে বাড়িতে থাকবেন না। মোমবাতির পরিবর্তে ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করুন। বৈদ্যুতিক সুইচ অন করার আগে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে জেনে নিন। কেননা বিদ্যুৎ বিস্ফোরণ হতে পারে। আপনার প্রিয়জনকে জানান আপনি নিরাপদ আছেন।



