দেশের সাধারণ মানুষের তুলনায় স্বর্ণকারদের গড় আয়ু প্রায় ১৩ বছর কম বলে জানিয়েছে একটি সাম্প্রতিক গবেষণা। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণালংকার তৈরির এলাকা তাঁতীবাজারের স্বর্ণ কারিগরদের নিয়ে এই গবেষণাটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)।
গবেষণায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, তাঁতীবাজারের প্রতি চারজন কর্মকারের মধ্যে তিনজনই কোনো না কোনো অসংক্রামক রোগে ভুগছেন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ কারিগরের রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, ৫০ শতাংশের ডায়াবেটিস, ৩৫ শতাংশের হৃদ্রোগ এবং ২০ শতাংশের কিডনিজনিত জটিলতা। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এসব কারিগরের গড় আয়ু সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ১২ বছর ৩ মাস কম।
গবেষকেরা বলছেন, স্বর্ণকারদের এই কম আয়ুর পেছনে মূলত দায়ী পেশাগত কাজের সময় ব্যবহৃত কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। বিশেষ করে সালফিউরিক অ্যাসিডের ধোঁয়ার সংস্পর্শে দীর্ঘসময় থাকতে হয় তাদের, যা থেকে বাঁচার তেমন কোনো উপায় তাদের হাতে নেই। এ ছাড়া কাজের সময় সূক্ষ্ম কাজে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কায় ফ্যান চালানো যায় না বলে গরমের মধ্যেই কাজ করতে হয় তাদের। এতে করে অনেকেই নিয়মিত ঠান্ডাজনিত সমস্যা ও জ্বরে ভোগেন। কাজের পরিবেশে থাকা ধুলাবালির চাপও তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার ফলে স্বর্ণকারেরা একদিকে যেমন একাধিক অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, তেমনি তাদের কর্মক্ষমতা ও আয়ুও কমে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ নিশ্চিত করা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারে বাধ্যতামূলক নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।



