ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ এবং সমুদ্রবন্দরে অবরোধের মুখে থাকা ইরানের জন্য নিজেদের স্থল বাণিজ্য পথ খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেশী এই দেশটির এমন সাহসী পদক্ষেপের ফলে এখন থেকে পাকিস্তানের ওপর দিয়ে ইরানের পণ্য পরিবহন বা ট্রানজিট সুবিধা সচল হলো।
শনিবার (২ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
যুদ্ধে বিপর্যস্ত ও অর্থনৈতিকভাবে চাপে থাকা ইরানের জন্য পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমুদ্রপথে অবরোধের কারণে ইরানের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য যখন চরম সংকটে, তখন পাকিস্তানের স্থলপথ ব্যবহার করে বহির্বিশ্বের সাথে বাণিজ্য সচল রাখার সুযোগ তেহরানের স্থবির অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক রাজনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে চাপে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে, তখন পাকিস্তানের এই ট্রানজিট সুবিধা সেই চাপকে কতটা দুর্বল করে দেবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এছাড়া, যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে, এই নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্কের ফলে সেই আলোচনায় পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান এমন এক সময়ে তেহরানকে এই বড় সুবিধা দিল, যখন ইরানের সাথে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক তলানিতে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে থমকে যাওয়া অর্থনীতিকে সচল করতে পাকিস্তান এই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেও, এর ফলে ওয়াশিংটনের সাথে ইসলামাবাদের সম্পর্কে নতুন কোনো টানাপোড়েন তৈরি হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



