আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থানরত ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ প্রমোদতরীতে (ক্রুজ শিপ) হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু এবং আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
ভাইরাসটির সংক্রমণ ও ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংস্থাটি জানায়, ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকলেও সতর্কতা অবলম্বন করলে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রিয়েসুস জানান, এ পর্যন্ত পাঁচজনের শরীরে হান্টাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তিনজন সন্দেহভাজন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “আন্দিজ ভাইরাসের এই বিরল স্ট্রেইনটির সুপ্তিকাল বা ইনকিউবেশন পিরিয়ড ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে আগামীতে আরও কিছু নতুন কেস শনাক্ত হতে পারে।”
ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ওই জাহাজের যাত্রীদের শনাক্ত করে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারি প্রস্তুতি বিষয়ক পরিচালক মারিয়া ভ্যান কারকোহভ আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘এটি কোনো নতুন মহামারি বা অতিমারির শুরু নয়। হান্টাভাইরাস কোভিডের মতো সংক্রামক নয়।’
হান্টাভাইরাস মূলত বিরল শ্বাসতন্ত্রের রোগ যা সংক্রমিত ইঁদুর বা রোডেন্ট জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগের জটিলতা এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বর হতে পারে। বর্তমানে এই রোগের কোনো টিকা বা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নেই। শুধু উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
ডব্লিউএইচও জানায়, গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ প্রমোদতরী যাত্রা শুরু করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো একজন যাত্রী বোর্ডিংয়ের আগেই সংক্রমিত ছিলেন এবং পরে সমুদ্রযাত্রার সময় অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথম মৃত্যুটি ঘটে গত ১১ এপ্রিল। ৩ মে ওই জাহাজের আরেক জার্মান নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।



