Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চীনের সব উপহার ডাস্টবিনে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা বলছে ফ্যাক্টচেক

বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

বেইজিং সফর শেষে বিমান বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে চীনের দেওয়া সব উপহার সামগ্রী বর্জন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার দল এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া বার্নার ফোন, পরিচয়পত্র, ব্যাজ, প্রেস আমন্ত্রণপত্র এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্মারক ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিং ছাড়ার সময় চীনের দেওয়া কোনো উপহার বা সামগ্রী সঙ্গে নেয়নি মার্কিন প্রতিনিধি দল। মূলত সম্ভাব্য নজরদারি, সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি বা ট্র্যাকিং ঠেকাতেই হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বিভাগ ও সিক্রেট সার্ভিস এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য চুরি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা চলছে, যার প্রতিফলন দেখা গেল ট্রাম্পের এই বেইজিং সফরেও।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধানদের বিদেশ সফরে কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সফরে ব্যবহৃত কিছু অস্থায়ী সামগ্রী যেমন—প্রবেশপত্র, ব্যাজ বা প্রটোকলসংক্রান্ত উপকরণ সফর শেষে ফেরত দেওয়া বা বাতিল করা হয়ে থাকতে পারে। সেখান থেকেই মূলত এই গুজবের সূত্রপাত।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও জানিয়েছেন, সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় সফরে সরকারি প্রতিনিধিদল ও সাংবাদিকেরা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায়ই অস্থায়ী বা নিয়ন্ত্রিত যোগাযোগ ডিভাইস ব্যবহার করে থাকেন, যাতে নজরদারি বা তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি কমানো যায়। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, চীন সরকারের দেওয়া সব স্মারক সামগ্রী বা উপহার তারা বর্জন করেছেন।

এই আলোচিত বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস কিংবা চীনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিটি সম্পূর্ণ যাচাইবিহীন রয়ে গেছে।

নিউইয়র্ক পোস্টের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা এমিলি গডিন এই নিরাপত্তা প্রটোকলের বিষয়টি সামনে এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে চীনা উৎসের কোনো জিনিস বিমানটিতে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। হোয়াইট হাউস নিরাপত্তা বিভাগ ও সিক্রেট সার্ভিস অত্যন্ত কঠোরভাবে বিষয়টি বাস্তবায়ন করেছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া সব জিনিস এক জায়গায় সংগ্রহ করে সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয় এবং চীনের কোনো জিনিস বিমানে তুলতে দেওয়া হয়নি।

ওয়াশিংটনে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেন। চীন কর্তৃক নজরদারির আশঙ্কার জবাবে বেশ খোলামেলা ও রসাত্মক ভঙ্গিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরাও তাদের ওপর ব্যাপকভাবে গুপ্তচরবৃত্তি করি।” তার এই মন্তব্য দুই পরাশক্তির মধ্যকার চলমান স্নায়ুযুদ্ধ ও সাইবার নজরদারির বাস্তব চিত্রকে আবারও প্রকাশ করেছে।

   

About

Popular Links

x