পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহার ও জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে আহ্বান করা লংমার্চ স্থগিত করেছে দেশটির রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী (জেআই)। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরাসরি টেলিফোন করে অনুরোধ জানানোর পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মূল কর্মসূচি স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মুলতানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তাকে সরাসরি ফোন করে লংমার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন। দলীয় নেতাদের সাথে বৈঠকের পর সরকারকে একটি সুযোগ দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জামায়াত আমির সাফ জানিয়ে দেন, সরকারের সাথে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করা হলেও তাদের প্রতিবাদ ও মূল আন্দোলন বাতিল করা হয়নি। তিনি বলেন, “আমাদের কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই; এটি পাকিস্তানের ২৫ কোটি মানুষের টিকে থাকার লড়াই। জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশে ফিরলে তার সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে সরকার যদি পেট্রোলিয়াম লেভি কমানোর বিষয়ে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার ঘোষণা না দেয়, তবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নতুন উদ্যমে একই শক্তিতে লংমার্চ শুরু করা হবে। তবে বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে চলমান বিক্ষোভ ক্যাম্প ও অবস্থান কর্মসূচি যথারীতি অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে গত ৭ আগস্ট থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে জামায়াতে ইসলামী। আন্দোলনের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে পাকিস্তানজুড়ে ৫১০টি স্থানে বিক্ষোভ এবং ৪২টি স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। সরকারের সাথে পূর্বে পাঁচ দফা আলোচনা হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তের অজুহাতে তা বাস্তবায়ন করেনি সরকার।



