সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বরফ ও হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট এ সংকট নিচু দ্বীপদেশগুলোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রস্তাব পাস করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সমস্যা মোকাবিলার কার্যক্রমে গতি আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা জোরদার করতে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি, সমুদ্রের পানির নিচে কোনো দেশ ধীরে ধীরে বিলীন হতে শুরু করলে কী হবে, সে সংক্রান্ত আইনি বিষয়গুলোরও সমাধান বের করা হয়েছে।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, উপকূলরেখা পিছিয়ে গেলেও সামুদ্রিক সীমানা বহাল থাকবে। একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর কোনো একটি মৌলিক উপাদান বিলীন হয়ে গেলেই যে রাষ্ট্রের মর্যাদা হারিয়ে যাবে, তা নয়।
২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৬ মিলিমিটার বেড়েছে। এক বছরে এটাই এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। বড় ধরনের পদক্ষেপ না নিলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বা তারও বেশি বাড়তে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মিলিমিটারে মাপা হয়। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ হয় লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হওয়া, জনপদ উচ্ছেদ এবং ভবিষ্যৎ হারানোর সংখ্যা দিয়ে।”
তিনি বলেন, “আমরা দেশ ও সংস্কৃতিকে ঢেউয়ের নিচে হারিয়ে যেতে দিতে পারি না। কোটি কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা পানিতে ডুবে যাক তা-ও আমরা চাই না।”
ছোট দ্বীপদেশগুলোর জোট অ্যালায়েন্স অব স্মল আইল্যান্ড স্টেটসের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট সুরাঙ্গেল হুইপস জুনিয়র বলেন, “চারপাশের সমুদ্র যেসব রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত, সেসব দেশের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি জীবন বদলে দেওয়ার মতো প্রভাব ফেলবে।”
তিনি বলেন, “ছোট দ্বীপদেশগুলো ১৯৮৯ সালের ‘মালে ঘোষণার’ পর থেকেই বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। তারা এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নেও ভূমিকা রেখেছে।”
এই ঘোষণাকে ‘একটি সত্যিকারের অর্জন’ হিসেবে স্বাগত জানান তিনি।



