সৌদি আরবের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ শুরু করেছে ইয়েমেনের হুথিরা।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বলেছে, জেদ্দায় আরামকোর পেট্রোলিয়াম সংরক্ষণাগারে হামলা করেছে তারা। এ সময় দুটি স্টোরেজ ট্যাঙ্কে আগুন লাগলেও কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার সৌদি আরবিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সেরওপর দিয়ে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। রমজানের কারণে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আগে রাজ্যের তেল স্থাপনাগুলোয় আক্রমণ বাড়িয়েছে হুথিরা। সৌদি মালিকানাধীন এখবাড়িয়া টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ ফুটেজে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
দেশটিতে এ “নাশকতা হামলার” তীব্র নিন্দা এবং এ ধরনের হামলার ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার দায়ভার তারা বহন করবে না বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এ হামলার পেছনে ইরানকে দোষারোপ করছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।তাদের মতে, রাজ্যের উৎপাদন ক্ষমতা এবং বিশ্ব বাজারে তার দায়বদ্ধতা পূরণের ক্ষমতা এ হামলার কারণে প্রভাবিত হবে।
তবে, ইরান হুথিদের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
জেদ্দা ফর্মুলা ওয়ান সৌদি আরবিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সের আয়োজন করার ঠিক আগ মুহূর্তে হামলার ঘটনা ঘটেছে।যদিও ফর্মুলা ওয়ানের সিইও স্টেফানো ডোমেনিকালি বলেছেন পরিকল্পনা অনুযায়ীই তারা ঠিকই এগিয়ে যাবে।
তবে, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আরামকোর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইউএস সেক্রেটারি অব স্টেট এন্টনি ব্লিঙ্কেন মিত্র রাষ্ট্র সৌদি আরবের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইয়েমেনের সংঘাতের একটি টেকসই সমাধানের জন্য কাজ করার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে রিয়াদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
ব্লিঙ্কেন বলেন, “রমজান মাসের আগে ইয়েমেনের জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় জীবন-রক্ষামূলক ত্রাণ আনয়নের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত, তখন হুথিরা তাদের ধ্বংসাত্মক আচরণ এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত করে বেপরোয়া সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।”
২০১৪ সালের শেষের দিকে হুতিরা রাজধানী সানা থেকে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ইয়েমেন দখল করে তারা।



