নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উত্তর ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডের জনগণ। রাশিয়া তাদের দেশে হামলা চালাতে পারে বলে মনে করেন ফিনল্যান্ডের বেশির ভাগ মানুষ। এই নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ফিনল্যান্ড। বছরখানেকের চেষ্টার পর তারা গত সপ্তাহে ন্যাটোর সদস্য হতে সক্ষম হয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে ফিনল্যান্ডের সীমান্ত রয়েছে ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার। এটিই ফিনল্যান্ডের মানুষের উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ। এর আগে, ১৯৩৯ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনল্যান্ড আক্রমণ করেছিল। সেই যুদ্ধ চলে প্রায় পাঁচ মাস। তখন ফিনল্যান্ডের বড় একটি অংশ দখল করে নিয়েছিল সোভিয়েত বাহিনী।
এরপর ১৯৪৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে “ফ্রেন্ডশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন অ্যান্ড মিউচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট” নামের চুক্তি করে ফিনল্যান্ড। সে সময় থেকে নিরপেক্ষ থাকার নীতি গ্রহণ করে ফিনল্যান্ড।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ন্যাটোর প্রতি ঝুঁকে পড়ে ফিনল্যান্ড। ১৯৯৪ সালে ন্যাটোর “অফিশিয়াল পার্টনার” হয় ফিনল্যান্ড। তবে ন্যাটোর পূর্ণাঙ্গ সদস্য হওয়া নিয়ে তেমন মাথাব্যথা ছিল না দেশটির। একই সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য হয় ফিনল্যান্ড।
ফাইল ছবি/ পেক্সেলসনানা বাঁকবদলের মধ্যেও নিরপেক্ষতার নীতি মেনে চলছিল ফিনল্যান্ড। তবে সম্প্রতি মস্কোর আগ্রাসী মনোভাবের কারণে রুশ ভীতি দেখা যায় ফিনল্যান্ডবাসীদের মধ্যে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে রাশিয়া। এই হামলার জেরে ফিনল্যান্ডের উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যায়।
আগে রাশিয়া-ফিনল্যান্ডের সীমান্তে কাঠের বেড়া ছিল। তবে বর্তমানে ওই সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগী হয় ফিনল্যান্ড। মার্চে ফিনল্যান্ড জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার সীমান্তের ২০০ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছে। এই বেড়া ১০ ফুট উঁচু।
এছাড়াও সম্ভাব্য হামলা থেকে জনগণকে বাঁচানোর জন্য রাজধানী হেলসিঙ্কিতে মাটির নিচে “লুকানো শহর” বানানোর চিন্তাও করছে দেশটি। এই শহরে প্রায় ৯ লাখ মানুষ কয়েক মাস বসবাস করতে পারবেন। দেশটির অন্যান্য জায়গাতেও এমন শহর বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
“লুকানো শহর” ছাড়াও ফিনল্যান্ড দেশজুড়ে পাঁচ হাজার বোমা শেল্টার ও ৫০ হাজার বাংকার বানিয়েছে।
ফিনল্যান্ডের রুশ ভীতির বিষয়ে ফিনিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনালের গবেষক চ্যার্লি স্যালোনিয়াস-পাসটারনাক বলেছেন, “এটির একটি ঐতিহাসিক ধারণা আছে। সব সময় প্রস্তুত থাকা উচিত। কারণ, রাশিয়া যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে।



